অভিবাসন এখন পর্তুগালের অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তবে নতুন আগতদের অনেকেই যুদ্ধ, দীর্ঘ ও বিপজ্জনক যাত্রা এবং স্থানীয় সমাজে বর্ণবাদী আচরণের কারণে মানসিক আঘাতের শিকার হচ্ছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসায় সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বাধা।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় লিসবনের ইসমাইলি সেন্টারে ‘হোয়াট হেলথ’ নামে একটি প্রকল্প শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ২০২৯ সাল পর্যন্ত চলবে এ গবেষণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম। প্রকল্পের কর্মীরা অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন, বিশেষ করে প্রবাসী উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াচ্ছেন।
অভিবাসী পটভূমি থেকে আসা অনেকেই এই প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নেপাল, ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আসা চিকিৎসক ও সমাজকর্মীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সহকর্মীদের জীবনমান উন্নত করতে কাজ করছেন। প্রকল্পের লক্ষ্য হলো চিকিৎসকদের সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা বাড়ানো এবং অভিবাসীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পথ সহজ করা।
পর্তুগাল গত কয়েক দশকে অভিবাসী গ্রহণকারী দেশে পরিণত হয়েছে। ব্রাজিল ও কেপ ভার্দের পর পূর্ব ইউরোপ, সিরিয়া, আফগানিস্তান এবং দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমিকরা এখানে আসতে শুরু করেন। কৃষি, পর্যটন ও বয়স্কদের যত্নে অভিবাসী শ্রমিক অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু তাদের অনেকেই যুদ্ধের ভয়াবহতা ও যাত্রাপথের কষ্টে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
আলমেইরিম শহরে ‘ক্লেইম’ নামের একটি কেন্দ্র সিরীয় ও ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের মানসিক সহায়তা দিচ্ছে। কেন্দ্রটি ‘কুইদার+’ নামে একটি প্রোগ্রাম চালু করেছে, যেখানে আস্থা ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে সহিংসতা ও ট্রমা মোকাবিলায় সাহায্য করা হয়।
ভাষাগত বাধা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য টেলিফোন ইন্টারপ্রেটিং সার্ভিস ও আন্তঃসাংস্কৃতিক মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করা হয়েছে। পর্তুগিজ কাউন্সিল ফর রিফিউজিস (সিপিআর) আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য প্রাথমিক মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করে এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে লিসবনের মানসিক হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অভিবাসীদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ২০২৫ সালের সংস্কারের পর অনথিভুক্ত অভিবাসীদের হাসপাতালে যেতে ১০০ ইউরোর বেশি ফি দিতে হচ্ছে, যা অনেকের নাগালের বাইরে। ফলে তারা চিকিৎসা নিতে ভয় পাচ্ছেন। একই সঙ্গে ডানপন্থি চেগা দলের উত্থান এবং বর্ণবাদী বক্তব্য অভিবাসীদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সিপিআর বলছে, শরণার্থীরা নতুন দেশে এসে আবারো বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, যা তাদের পুরোনো ট্রমার সঙ্গে নতুন আঘাত যোগ করছে। এজন্য ‘ফ্রম কেয়ার টু সেলফ কেয়ার’ নামে একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যেখানে পেশাজীবীদের ট্রমা সম্পর্কে সচেতন করা এবং নিজের মানসিক চাপ সামলানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)