Logo
×

Follow Us

আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অভিবাসন নিয়ে তীব্র বিক্ষোভ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১

দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অভিবাসন নিয়ে তীব্র বিক্ষোভ

দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অভিবাসন নিয়ে জনরোষ চরমে পৌঁছেছে। টানা আন্দোলন ও বিক্ষোভের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন লাখো অভিবাসী। সরকারি হিসাব অনুযায়ী জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৫৩ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, দেশে ১৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন অবৈধ অভিবাসী রয়েছে।

সোয়েতোসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদেশিদের চলে যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। জুনে দেশব্যাপী বিক্ষোভে ৯০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিছু এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। এ সময় অন্তত একজন নিহত হন।

আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’ নামের সংগঠন। তাদের নেতা জাসিন্তা নগোবেসে-জুমা দাবি করেছেন, “দেশে অপরাধ বাড়ছে বিদেশিদের কারণে। তারা চাকরি দখল করছে, হাসপাতাল ও স্কুলে জায়গা নিচ্ছে।” সংগঠনটি সহিংসতার বিরোধিতা করলেও তাদের কর্মীরা রাস্তায় নেমে বিদেশিদের চলে যেতে ‘উৎসাহিত’ করছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে অভিবাসীর সংখ্যা তিন মিলিয়নের মতো। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, এ সংখ্যা বাস্তবের তুলনায় অনেক কম। পরিসংখ্যান বিভাগও স্বীকার করেছে, অভিবাসীদের তথ্য যাচাই করার যথাযথ ব্যবস্থা নেই।

দেশে বেকারত্বের হার ৩২ শতাংশের বেশি। অথচ অবৈধ অভিবাসীরা কম মজুরিতে কাজ পাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা নিজেই স্বীকার করেছেন, অনেক নিয়োগকর্তা ন্যূনতম মজুরি না দিয়ে অবৈধ অভিবাসীদের কাজে লাগাচ্ছেন। এর ফলে স্থানীয়দের ক্ষোভ আরো বেড়েছে।

হাসপাতালেও একই চিত্র। জোহানেসবার্গের হেলেন জোসেফ হাসপাতালে রোগীদের ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, বিদেশিদের ভিড়ে স্থানীয়রা চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

অভিবাসন ইস্যুতে সরকারকে ব্যর্থ বলছে বিরোধী দল অ্যাকশন এসএ। তাদের নেতা হারম্যান মাশাবা বলেছেন, “তিন দশকের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যর্থতার ফলেই আজকের সংকট।” জনমত জরিপে দেখা গেছে, বেকারত্বের পর অভিবাসনই দক্ষিণ আফ্রিকানদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।

অতীতে অভিবাসনবিরোধী সহিংসতায় বহু প্রাণহানি ঘটেছে। ২০০৮ সালে ৬২ জন নিহত হয়েছিলেন। ২০১৫ সালে মারা যান অন্তত পাঁচজন। এবারো আন্দোলনকারীরা সতর্ক করে বলছেন, সরকার যদি কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট রামাফোসা ঘোষণা দিয়েছেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চান তারা।

Logo