দক্ষিণ ইউরোপে তীব্র গরম ও প্রবল বাতাসের কারণে স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন থেকে বাঁচাতে হাজারো মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য।
কয়েক দিন ধরে দাবানলে জ্বলছে ইতালির সিসিলি দ্বীপ। আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ছয় হাজার ফায়ার সার্ভিস সদস্য, বনরক্ষী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা কাজ করছেন। ইতালি সরকার জানিয়েছে, আগুন নেভাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর একজন ফায়ার সার্ভিস সদস্য মারা গেছেন। পাশের কালাব্রিয়া অঞ্চলেও ১৬০টির বেশি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের লে পর্জ এলাকায় দাবানলের কারণে ১০ হাজারের বেশি পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা জুলি লিওনার্দ জানিয়েছেন, বিকেলের মাঝামাঝি সময়ে আকাশজুড়ে বিশাল কালো ধোঁয়ার মেঘ ছড়িয়ে পড়েছিল। ফরাসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার থেকে দাবানলে ২ হাজার ৪০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। যদিও এখনো কোনো বাড়িঘর ধ্বংস হয়নি। তবে বোর্দো বিমানবন্দরের কাছে আরেকটি দাবানল নেভাতে গিয়ে মঙ্গলবার দুই ফায়ার সার্ভিস কর্মী নিহত হন।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে বড় একটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ফলে সেখানকার বেশির ভাগ বাসিন্দা বাড়ি ফিরতে পেরেছেন। তবে মাদ্রিদের উত্তরে গুয়াদালাহারা প্রদেশে আরো বড় দাবানল নেভাতে শত শত ফায়ার সার্ভিস কর্মী কাজ করছেন। এ দাবানলে ইতোমধ্যে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে।
ইউরোপীয় স্যাটেলাইট ব্যবস্থা ইএফএফআইএস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের অর্ধেকও শেষ হয়নি। এরই মধ্যে দাবানলে যে পরিমাণ এলাকা পুড়েছে, তা গত ২০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে, যা দাবানলকে আরো ভয়াবহ করে তুলছে।
দাবানল এখন ইউরোপের এক ভয়াবহ সংকটে পরিণত হয়েছে। ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেনে হাজারো মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তীব্র গরম ও প্রবল বাতাসের কারণে দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের দুর্যোগ আরো ঘন ঘন ঘটছে।
logo-1-1740906910.png)