Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

শেনজেনে যোগ দিচ্ছে সাইপ্রাস, ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বাস্তবতা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৭

শেনজেনে যোগ দিচ্ছে সাইপ্রাস, ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বাস্তবতা

সাইপ্রাস সরকার ঘোষণা দিয়েছে, তারা ২০২৬ সালের শেষ বা ২০২৭ সালের শুরুতে শেনজেন এলাকায় যোগ দিতে চায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে কেবল সাইপ্রাস ও আয়ারল্যান্ড শেনজেনের বাইরে রয়েছে। আয়ারল্যান্ড নিজস্ব ভিসানীতি বজায় রাখতে চাইছে, কিন্তু সাইপ্রাস চুক্তি অনুযায়ী শেনজেনে যোগ দিতে বাধ্য।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাইপ্রাস শেনজেনের শর্ত পূরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, নতুন নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপন এবং লারনাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। তবে দ্বীপের উত্তরাংশে তুরস্কের দখল এখনো একটি জটিলতা তৈরি করছে। ইউরোপীয় কমিশন বর্তমানে সাইপ্রাসের প্রস্তুতি মূল্যায়ন করছে। এরপর বিষয়টি রাজনৈতিক পর্যায়ে যাবে, যেখানে সব সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মত অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

শেনজেনে যোগ দিলে সাইপ্রাসে অভিবাসন ও কর্মসংস্থান নীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে সাইপ্রাসে নিয়োগকর্তারা বিদেশি কর্মীকে আগাম অনুমোদন দিয়ে দেশে আনতে পারেন। শেনজেনে যোগ দেওয়ার পর এ প্রক্রিয়া বন্ধ হবে। পরিবর্তে কর্মীদের নিজ দেশে সাইপ্রাসের দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে দীর্ঘমেয়াদি টাইপ-ডি ভিসা নিতে হবে। এতে সময়, নথিপত্র ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন চাপ তৈরি হবে।

সাইপ্রাসের অনেক দেশে দূতাবাস নেই বা পর্যাপ্ত জনবল নেই। বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এ সমস্যা প্রকট। শেনজেনে যোগ দেওয়ার পর ভিসা ইস্যু হবে মূল দায়িত্ব, তাই সাইপ্রাসকে কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়াতে হবে। সম্ভাব্যভাবে কিছু ভিসা প্রক্রিয়া আউটসোর্সও করা হতে পারে।

শেনজেনে যোগ দিলে সাইপ্রাসে পর্যটন, ব্যবসা ও পণ্য পরিবহনে সুবিধা বাড়বে। অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ উঠে গেলে ইউরোপের অন্যান্য দেশের সঙ্গে চলাচল সহজ হবে। এতে অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

২০০৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার পর শেনজেনে প্রবেশ সাইপ্রাসের সবচেয়ে বড় মাইলফলক হতে যাচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশটি শুধু অর্থনৈতিক সুবিধাই পাবে না, বরং অভিবাসন নীতিতে আরও স্বচ্ছ ও একীভূত কাঠামো গড়ে তুলতে পারবে।

Logo