উত্তর আফ্রিকার অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ও নিখোঁজের ঘটনা বেড়েছে। সেন্ট্রাল মেডিটেরানিয়ান রুটে মৃত্যুর হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও ইতালিতে সমুদ্রপথে আগমন কমেছে ৫২ শতাংশ। এতে বোঝা যায়, আগমন কমলেও ঝুঁকি কমেনি, বরং কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে বিপদ বেড়েছে।
২৮ জুন পর্যন্ত ইতালিতে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে আলজেরিয়া দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রস্থান দেশ হিসেবে উঠে এসেছে। মোট আগমনের ৮ শতাংশ এসেছে আলজেরিয়া থেকে (১,১৯৮ জন), যা তিউনিসিয়ার সমান। তবে লিবিয়া এখনো প্রধান কেন্দ্র, সেখান থেকে এসেছে ৮৩ শতাংশ অভিবাসী (১১,৮৪৮ জন)।
অন্যদিকে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে আগমন বেড়েছে ২৬ শতাংশ, যদিও স্পেনে মোট আগমন কমেছে ৩৩ শতাংশ। এখানেও আলজেরিয়া প্রধান প্রস্থান দেশ।
লিবিয়ায় কর্তৃপক্ষ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। পুনর্বাসন কার্যক্রম, স্থানীয় আইন প্রয়োগ এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার বিরুদ্ধে জনসমর্থিত প্রতিবাদ দেখা গেছে। পূর্ব লিবিয়া সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে, যা সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগকে সীমিত করছে।
তিউনিসিয়ায় অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য ও প্রতিবাদ বেড়েছে। তবে একই সঙ্গে অভিবাসী ও শরণার্থীদের সুরক্ষার দাবিতে সংহতি মিছিলও হয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, জুলাই ২০২৫ থেকে প্রায় ৫,০০০ জনকে সংগঠিতভাবে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
মরক্কো উত্তরাঞ্চল থেকে অভিবাসীদের স্থানান্তর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে তাদের আলজেরিয়া সীমান্তের দিকে সরানো হয়েছে। এ সময় আলজেরিয়া-মরক্কো সীমান্তে ২৬ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, যা গত ছয় মাসে মোট ৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনা সীমান্ত পারাপারের মানবিক ঝুঁকি স্পষ্ট করে।
ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, উত্তর আফ্রিকার অভিবাসন সংকট আরো জটিল হচ্ছে। লিবিয়া ও আলজেরিয়া থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত সংকট তাদের জীবনকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। একই সঙ্গে তিউনিসিয়া ও মরক্কোতে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। সব মিলিয়ে এ অঞ্চলে মানবিক সংকট আরো গভীর হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)