বিশ্বের অনেক ছোট দেশ ও দ্বীপরাষ্ট্রে পর্যটকের সংখ্যা স্থানীয় জনসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স ও বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ডোরা, মোনাকো, মাল্টা, আইসল্যান্ডসহ ২৫টি দেশে প্রতি বছর স্থানীয়দের তুলনায় বেশি আন্তর্জাতিক পর্যটক আসে।
পিরেনিজ পর্বতমালার মাঝে ফ্রান্স ও স্পেনের সীমান্তে অবস্থিত অ্যান্ডোরা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পর্যটকপ্রবণ দেশ। মাত্র ৮২ হাজার বাসিন্দার এই দেশে প্রতি বছর প্রায় ৪.২ মিলিয়ন পর্যটক আসে। অর্থাৎ প্রতি বাসিন্দার বিপরীতে ৫১ জন পর্যটক। স্কি রিসোর্ট, স্পা, পাহাড়ি দৃশ্য এবং ডিউটি-ফ্রি কেনাকাটার সুযোগ অ্যান্ডোরাকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করেছে।
তালিকার শীর্ষে থাকা দেশগুলোর অনেকগুলোই দ্বীপরাষ্ট্র। মাল্টায় প্রতি বাসিন্দার বিপরীতে ৬.৩ জন পর্যটক আসে, যা আইসল্যান্ডের ৫.৬ জনের চেয়ে বেশি। ক্যারিবীয় অঞ্চলে বাহামাসে ৪.৭ জন, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় ৩.৫ জন এবং বার্বাডোসে ২.৫ জন পর্যটক প্রতি বাসিন্দার তুলনায় আসে। ভারত মহাসাগরে মালদ্বীপে ৩.২ জন এবং সেশেলসে ২.৮ জন পর্যটক আসে প্রতি বাসিন্দার বিপরীতে।
শুধু ছোট দেশ নয়, জনবহুল ইউরোপীয় দেশও তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। ক্রোয়েশিয়া প্রতি বাসিন্দার বিপরীতে ৪ জন পর্যটক গ্রহণ করে। অস্ট্রিয়ায় ২.৯ জন এবং পর্তুগালে ২.৭ জন পর্যটক আসে। ঐতিহাসিক স্থাপত্য, সমুদ্রতট ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এসব দেশে পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
অ্যান্ডোরা, মাল্টা, বাহামাস বা মালদ্বীপের মতো দেশগুলোতে পর্যটন অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। অ্যান্ডোরার অর্থনীতির প্রায় চার-পঞ্চমাংশই পর্যটননির্ভর। একইভাবে মাল্টা ও আইসল্যান্ডে পর্যটন দেশের আয়ের বড় অংশ জোগায়।
তথ্য বলছে, ছোট দেশ ও দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে পর্যটন স্থানীয় জনসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। অ্যান্ডোরা শীর্ষে থাকলেও মাল্টা, আইসল্যান্ড, বাহামাস ও মালদ্বীপও বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে। বড় দেশগুলোর মধ্যে পর্তুগাল, অস্ট্রিয়া ও ক্রোয়েশিয়া প্রমাণ করেছে, জনসংখ্যা বেশি হলেও পর্যটক আকর্ষণ করা সম্ভব।
logo-1-1740906910.png)