Logo
×

Follow Us

এশিয়া

নেপালে বাড়ছে মানব পাচার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪

নেপালে বাড়ছে মানব পাচার

নেপালে মানব পাচার এখনো অন্যতম বড় মানবাধিকার ও নিরাপত্তা সংকট। দীর্ঘদিনের আইন সংস্কার ও সচেতনতা প্রচারণা সত্ত্বেও হাজারো নারী, শিশু ও দরিদ্র মানুষ জোরপূর্বক শ্রম, যৌন শোষণ, গৃহকর্মে দাসত্বসহ আধুনিক দাসত্বের শিকার হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু অপরাধ নয়, বরং গভীর সামাজিক বৈষম্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন।

মানব পাচারকে বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক অপরাধ বলা হয়। নেপালের দরিদ্র পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে দালালরা শিক্ষা, চাকরি বা বিদেশে ভালো জীবনের প্রতিশ্রুতি দেয়। বৈশ্বিক শ্রমবাজারে সস্তা শ্রম ও যৌন শোষণের চাহিদা থাকায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কোভিড-১৯ মহামারির সময় চাকরি হারানো ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।

অভিবাসন তত্ত্ব অনুযায়ী, মানুষ দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও বৈষম্যের কারণে নিজ দেশ থেকে “পুশ” হয় এবং বিদেশে ভালো চাকরি বা শিক্ষার প্রতিশ্রুতিতে “পুল” হয়। নেপালের তরুণরা দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতির আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করে, যা তাদের মানব পাচারের শিকার করে তোলে।

কার্ল মার্কসের সংঘাত তত্ত্ব অনুযায়ী সমাজে শ্রেণি বৈষম্য মানব পাচারের ঝুঁকি বাড়ায়। নেপালে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক বৈষম্য, জাতিগত বৈষম্য ও শিক্ষা-চাকরিতে অসম সুযোগ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আরো দুর্বল করে তুলেছে। নারী, শিশু ও নিম্নবিত্ত শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

নেপালে মানব পাচার নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। অসম্পূর্ণ রিপোর্ট ও সীমিত গবেষণার কারণে সঠিক নীতি গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এখন জাতীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞরা তিনটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন

প্রথমত, দারিদ্র্য কমানো, কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি।

দ্বিতীয়ত, তথ্য সংগ্রহ ও সীমান্তবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে গোয়েন্দা সহযোগিতা জোরদার করা।

তৃতীয়ত, ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক নীতি গ্রহণ করে তাদের চিকিৎসা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করা।

মানব পাচার মোকাবিলা শুধু আইন প্রয়োগে সম্ভব নয়। দরিদ্রতা, বৈষম্য, অশিক্ষা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর না করলে সংকট চলতেই থাকবে। নেপালের অভিজ্ঞতা দেখায়, মানব পাচার একটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা সমস্যা, যা মোকাবিলায় সরকার, এনজিও, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

Logo