ইংল্যান্ডের বিউরি কাউন্সিল স্থানীয় হাই স্ট্রিটে ছড়িয়ে পড়া তথাকথিত ‘ডজি শপ’ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, এসব দোকান আসলে বৈধ ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসা, মানি লন্ডারিং, আধুনিক দাসত্ব, মানব পাচার ও সাইবার অপরাধের মতো গুরুতর অপরাধের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
লেবার কাউন্সিলর মাইকেল রুবিনস্টেইন জানিয়েছেন, মিনিমার্ট ও ভেপ শপের প্রায় অর্ধেক এবং আমেরিকান ক্যান্ডি শপের এক-তৃতীয়াংশ আইনবহির্ভূতভাবে চলছে। তিনি বলেন, “এগুলো শুধু অদ্ভুত বা অজনপ্রিয় দোকান নয়, বরং আইন ভাঙার জন্যই পরিচালিত হচ্ছে। আমরা জানি তারা কী করে এবং কেমন দেখতে।”
রুবিনস্টেইন আরো বলেন, “কিছু দোকান মাদক সরবরাহে জড়িত। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, অনেক দোকান সংগঠিত অপরাধের অংশ। এটি মানি লন্ডারিং, আধুনিক দাসত্ব, মানব পাচার, সাইবার অপরাধ, সহিংসতা ও দুর্নীতি। ছোট্ট দোকান হলেও এগুলো বৃহত্তর অপরাধচক্রের প্রবেশদ্বার।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই অপরাধের মানবিক মূল্য ভয়াবহ। শিশু ও তরুণরা বিপদে পড়ছে, বয়স্করা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, আর সামাজিক সেবা ও স্বাস্থ্য খাতের ওপর চাপ বাড়ছে।
বিউরি কাউন্সিল সর্বসম্মতভাবে একটি লেবার প্রস্তাব পাস করেছে। এতে অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ এবং একটি ‘বরো-ওয়াইড সামিট’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধ স্থানীয় ব্যবসাকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন লেবার কাউন্সিলর ডেবরা গ্রিন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাসিন্দারা বারবার অভিযোগ করছেন, কীভাবে এসব দোকান চালু থাকে। তিনি আশ্বাস দেন, কাউন্সিল বাসিন্দাদের উদ্বেগ শুনেছে এবং পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
গ্রিন বলেন, “এই অবৈধ দোকানগুলো আমাদের টাউন সেন্টারে বৈধ ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পরিবারচালিত দোকান, ক্যাফে ও স্থানীয় ব্যবসাগুলো বিনিয়োগ করছে, চাকরি তৈরি করছে এবং শহরকে প্রাণবন্ত করছে। কিন্তু অবৈধ ব্যবসার প্রভাব শুধু অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলছে।”
বিউরি কাউন্সিলের এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। বৈধ ব্যবসা রক্ষা, অপরাধচক্র ভাঙা এবং নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলার জন্য এই পদক্ষেপকে স্থানীয়রা স্বাগত জানিয়েছেন।
logo-1-1740906910.png)