পর্তুগালে পথেঘাটে পরা যাবে না নেকাব; এসেছে নিষেধাজ্ঞা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৩
পর্তুগিজ পার্লামেন্টে সম্প্রতি পাস হওয়া নতুন আইনে জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখার ওপর সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আইনটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হওয়ার পর মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনের পর্তুগাল শাখার নির্বাহী পরিচালক জোয়াও গদিনহো মার্টিন্স বলেছেন, এই আইন বৈষম্যমূলক এবং নারীর মৌলিক অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলবে।
তিনি বলেন, “আইনের আগের সংস্করণে ইসলামকে সরাসরি উল্লেখ করা হলেও এবার তা বাদ দেওয়া হয়েছে। তবুও এই আইন মুসলিম নারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের ওপর সরাসরি আঘাত হানছে। কোনো নারী কী পরবেন বা কীভাবে নিজেকে প্রকাশ করবেন, তা রাষ্ট্র নির্ধারণ করতে পারে না।”
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মনে করছে, নারীর অধিকার রক্ষার দাবি করে আনা এই আইন আসলে উল্টো প্রভাব ফেলবে। যারা পূর্ণ মুখঢাকা পোশাক পরতে চান, তারা সামাজিকভাবে আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জনসেবায় প্রবেশাধিকারও কঠিন হয়ে যাবে।
আইনটি শুধু ধর্মীয় স্বাধীনতাই নয়, বরং গোপনীয়তা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকেও ক্ষুণ্ণ করছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা মুখ ঢেকে রাখতে পারবেন না। অথচ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, প্রতিশোধ এড়াতে বা নিরাপত্তার কারণে মুখ ঢেকে রাখা বৈধ।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই আইন পর্তুগালের সংবিধানেও সুরক্ষিত কয়েকটি মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে। তাই তারা প্রেসিডেন্টকে আইনটি স্বাক্ষর না করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সাংবিধানিক পর্যালোচনার দাবি তুলেছেন।
২০২৫ সালের অক্টোবরে চেগা নামের একটি ডানপন্থি দলের প্রস্তাবে প্রথম খসড়া বিল পাস হয়। তাতে বোরকা ও মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছিল। নিরাপত্তা ও নারীর অধিকার রক্ষার যুক্তি দেখানো হলেও সমালোচকরা বলছেন, এটি আসলে বৈষম্যমূলক।
বর্তমান আইন অনুযায়ী, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বা পরিচয় যাচাইয়ের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মুখ দেখানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু নতুন আইন জনসমক্ষে সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
logo-1-1740906910.png)