যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের থাকার মেয়াদে নতুন নিয়ম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১১:০২
যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসাধারীদের থাকার নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। দীর্ঘদিনের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থা বাতিল করে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার মেয়াদ আর ভিসার মেয়াদের ওপর নির্ভর করবে না, বরং তাদের একাডেমিক প্রোগ্রামের সময়কাল অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
আগে অধিকাংশ এফ-১ শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় নির্দিষ্ট কোনো শেষ তারিখ পেতেন না। তাদের ইলেকট্রনিক আই-৯৪ রেকর্ডে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ উল্লেখ থাকত। শর্ত ছিল অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকা, পূর্ণকালীন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, অভিবাসন বিধি মেনে চলা এবং কোর্স শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে দেশ ত্যাগ বা ভিসার ধরন পরিবর্তন করা।
এখন থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক প্রোগ্রামের সময়কাল অনুযায়ী সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন। যদি পড়াশোনা শেষ করতে চার বছরের বেশি সময় লাগে, তবে তাদের সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার কাছে ‘এক্সটেনশন অব স্টে’-এর আবেদন করতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ, একজন শিক্ষার্থী চার বছরের ব্যাচেলর প্রোগ্রামে ভর্তি হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পড়াশোনা শেষ করলে অতিরিক্ত কোনো আবেদন ছাড়াই গ্রেস পিরিয়ডে দেশ ছাড়তে পারবেন। আগে বিশ্ববিদ্যালয় ও SEVIS সিস্টেমের মাধ্যমে বিষয়টি পরিচালিত হতো, এখন দায়িত্ব সরাসরি ফেডারেল সরকারের হাতে যাচ্ছে।
নতুন নিয়মে ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা, প্রক্রিয়া কিংবা পাসপোর্টে উল্লেখিত ভিসার মেয়াদে কোনো পরিবর্তন আসছে না। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, আগের ব্যবস্থায় কিছু শিক্ষার্থী ধারাবাহিকভাবে নতুন প্রোগ্রামে ভর্তি হয়ে দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতেন। নতুন নিয়মে নিয়মিত সরকারি পর্যালোচনা ও জালিয়াতি প্রতিরোধ সহজ হবে।
আগে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর ৬০ দিন সময় পেতেন দেশ ছাড়তে বা ভিসার ধরন পরিবর্তন করতে। এখন সেই সময়সীমা কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনগুলোর ফলে ভিসার মেয়াদ নয়, বরং একাডেমিক প্রোগ্রামের সময়কাল অনুযায়ী তাদের অবস্থান নির্ধারিত হবে। এতে অভিবাসন প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছ হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিয়ন্ত্রণে আসবে।
logo-1-1740906910.png)