মালয়েশিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছাঁটাইয়ের সবচেয়ে বড় আঘাত লেগেছে উচ্চ দক্ষ কর্মীদের ওপর। মেব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের মধ্যে গড়ে অর্ধেকের বেশি ছিলেন উচ্চ দক্ষ কর্মী। ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসেও একই প্রবণতা বজায় রয়েছে।
সাধারণ ধারণা অনুযায়ী নিম্ন দক্ষ কর্মীরা ছাঁটাইয়ের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। কিন্তু বাস্তবে ম্যানেজার, পেশাজীবী, টেকনিশিয়ান ও সহযোগী পেশাজীবীদের মধ্যে ছাঁটাইয়ের হার সবচেয়ে বেশি। মেব্যাংক বলছে, এর একটি কারণ হতে পারে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার পরিকল্পনা, পারস্পরিক বিচ্ছেদ চুক্তি বা আগাম অবসর গ্রহণের প্রবণতা।
সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থার (SOCSO) তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত প্রায় ৩৯ হাজার কর্মী ছাঁটাই হয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উৎপাদন ও সেবা খাত। ব্যবসা সংকোচন ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়াই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সামগ্রিকভাবে মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে পূর্ণ কর্মসংস্থান বজায় রয়েছে। মহামারির পর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির কারণে ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা নতুন চাকরিতে যুক্ত হচ্ছেন। মেব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-মে সময়ে প্রতি ছাঁটাই হওয়া কর্মীর বিপরীতে ১.৫ জনের চাকরি পুনর্বিন্যাস হয়েছে।
ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের অনেকেই অনানুষ্ঠানিক খাতে যুক্ত হচ্ছেন। মাইক্রো ব্যবসা, গিগ ইকোনমি ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো খাতগুলো তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। এর ফলে ছাঁটাইয়ের প্রভাব কিছুটা কমেছে।
logo-1-1740906910.png)