ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার ঝালদা ব্লকের সেঁওয়াতি পাহাড় এখন পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা হয়ে উঠছে। ছোট ছোট টিলাজুড়ে বিস্তৃত পাহাড়ি রেঞ্জ, ঘন সবুজ জঙ্গল আর ঝরনার কলকল ধ্বনি মিলিয়ে এই জনপদ যেন প্রকৃতির এক অমূল্য ভাণ্ডার। দিনের বেলায় পাখির কিচিরমিচির আর সন্ধ্যা নামলেই বন্যপ্রাণের ডাক শোনা যায়। এখানকার জঙ্গলে হাতি, চিতাবাঘ এমনকি ভল্লুকও রয়েছে, যা জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে এলাকাটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
সম্প্রতি পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, জেলা প্রশাসক সুধীর কোন্থম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার), মহকুমাশাসক, বিডিও এবং দক্ষিণ-পশ্চিম চক্রের মুখ্য বনপাল রানা দত্ত সেঁওয়াতি পাহাড় পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই পাহাড়-জঙ্গলকে পর্যটনের আওতায় আনার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
পরিদর্শনকালে তারা ঝালদা বনাঞ্চলের কলমা বিটের সেঁওয়াতি পাহাড় ছাড়াও কোটশিলা বনাঞ্চলের সিমনি বিটের কাড়িয়র জঙ্গলও ঘুরে দেখেন। বনদপ্তর সাংসদকে এলাকার পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরে জানায়, এখানে জনবসতি নেই বললেই চলে। ফলে পাহাড়ি টিলা ও জঙ্গলে জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
তবে পরিদর্শন শেষে প্রশাসন, বনদপ্তর ও জনপ্রতিনিধিরা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি। স্থানীয়রা মনে করছেন, পর্যটন খাতে সেঁওয়াতি পাহাড় যুক্ত হলে পুরুলিয়ার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত খুলবে।
প্রকৃতির সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য এবং শান্ত পরিবেশে ভরপুর সেঁওয়াতি পাহাড় পর্যটনের জন্য এক অনন্য সম্ভাবনা হয়ে উঠছে। প্রশাসনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলার পর্যটন মানচিত্রে পুরুলিয়া নতুনভাবে জায়গা করে নেবে।
logo-1-1740906910.png)