গত তিন বছরে সাইপ্রাসে অবৈধ অভিবাসন প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দেশটির অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. নিকোলাস ইয়োয়ানিদেস জানিয়েছেন, বৈধ অভিবাসীদের জন্য প্রদত্ত রেসিডেন্স পারমিটের সংখ্যা এখন দুই লাখে পৌঁছেছে, আর আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজারে।
তিনি সংসদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক কমিটির সামনে বলেন, উপমন্ত্রক প্রতিষ্ঠার সময় দুই বছর আগে আশ্রয় আবেদন ঝুলে ছিল ২৪ হাজার। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৫০০।
ইয়োয়ানিদেস জানান, ২০২৫ সালে ১২ হাজারের বেশি অভিবাসী দেশ ছাড়লেও প্রবেশের হার ছিল পাঁচ গুণ বেশি। তবে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে অবৈধ প্রবেশ ২০২২ সালের তুলনায় ৯২ শতাংশ কমেছে। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় ৩৫ হাজার তৃতীয় দেশের নাগরিক সাইপ্রাস ছেড়েছেন।
তিনি আরো জানান, ৫ হাজার ২০০-এর বেশি সিরীয় নাগরিক তাদের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাহার করেছেন বা সুরক্ষা মর্যাদা ত্যাগ করেছেন। অধিকাংশই স্বেচ্ছায় সিরিয়ায় ফিরে গেছেন। প্রায় ২ হাজার সিরীয় আবেদন বাতিল করা হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া চলমান।
উপমন্ত্রী বলেন, সংসদের সহযোগিতায় শরণার্থী আইন সংশোধন করা হয়েছে। বিদেশিদের অপরাধমূলক আচরণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও ইউরোপীয় মানদণ্ড অনুযায়ী তাদের সুরক্ষা মর্যাদা বাতিল করা যাবে। তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পোরনারা রিসেপশন সেন্টার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এছাড়া লিমনেসে নতুন রিসেপশন ও প্রি-রিমুভাল সেন্টার চালু হওয়ায় ফেরত পাঠানোর সক্ষমতা ছয়গুণ বেড়েছে।
ইয়োয়ানিদেস উল্লেখ করেন, চলতি বছরের প্রথমার্ধে সাইপ্রাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিলের সভাপতিত্ব করেছে। এ সময়ে অভিবাসন ও আশ্রয় বিষয়ক নতুন চুক্তি এবং ফেরত পাঠানোর নিয়ম কার্যকর হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন চুক্তি সাইপ্রাস সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে যোগ্যদের সুরক্ষা দেওয়া হবে। তবে সীমান্তবর্তী রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থও রক্ষা করা হবে।
উপমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি নতুন ই-সার্ভিস চালু হয়েছে যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট অভিবাসন পারমিট অনলাইনে নবায়ন করা যাবে। ভবিষ্যতে এ সেবা আরো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সাইপ্রাসে অভিবাসন এখন আর শুধু সমস্যা নয়, বরং সমাধানের অংশ হয়ে উঠছে। অবৈধ প্রবেশ কমানো, ফেরত পাঠানো বাড়ানো এবং বৈধ অভিবাসীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি; সব মিলিয়ে দেশটির অভিবাসন নীতি নতুন দিগন্তে পৌঁছেছে।
logo-1-1740906910.png)