Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

যুক্তরাজ্যে ১৬ লাখ অভিবাসীর জন্য বিশাল সুসংবাদ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৯

যুক্তরাজ্যে ১৬ লাখ অভিবাসীর জন্য বিশাল সুসংবাদ

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। হোম অফিসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ১৬ লাখ অভিবাসীকে দ্রুততম সময়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের (আইএলআর) সুযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আগে পরিকল্পনা ছিল স্থায়ী হওয়ার জন্য ন্যূনতম সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হবে। তবে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের জোরালো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের পর সরকার সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে।

গত বছরের শেষভাগে হোয়াইট হলের মূল পরিকল্পনা ছিল ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সহজ ভিসা নীতিতে আসা অভিবাসীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা ১০ বছর করা। কিন্তু সমালোচকরা যুক্তি দেন, হঠাৎ নিয়ম পরিবর্তন করলে সামাজিক সেবা খাতে ভয়াবহ সংকট তৈরি হবে। কারণ এই খাতে লাখ লাখ বিদেশি কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। ফলে সরকার মানবিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় আগের কঠোর নীতি থেকে সরে আসছে।

ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যে আসা হাজার হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী ও তাদের পরিবার সরাসরি উপকৃত হবেন। নতুন নীতি কার্যকর হলে তাদের আর ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে না, বরং ৫ বছর পূর্ণ হলেই স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন।

এই পরিবর্তনের আলোচনার মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বিদেশি রাষ্ট্রগুলো অভ্যন্তরীণ অভিবাসন বিতর্ককে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। ডিজিটাল প্রচারণার মাধ্যমে সমাজে বিভাজন বাড়ানো এবং ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল দেখানোর চেষ্টা চলছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, সুপরিকল্পিত সাইবার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভীতি ছড়িয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি করাই এসব অপশক্তির লক্ষ্য।

স্বাধীন আর্থিক সমীক্ষায় সতর্ক করা হয়েছিল, লাখ লাখ স্বল্প বেতনের কর্মীকে দ্রুত স্থায়ী বসবাসের অধিকার দিলে জনসেবা খাতে ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের অগ্রাধিকার হলো শ্রমবাজারে স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং জনসেবামূলক খাতে কর্মী সংকট দূর করা।

বার্নহামের হস্তক্ষেপে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এতে বাংলাদেশিসহ লাখ লাখ অভিবাসী দ্রুত স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পাবেন। সরকারের লক্ষ্য হলো শ্রমবাজারে স্থিতিশীলতা আনা, জনসেবা খাতকে শক্তিশালী করা এবং বিদেশি অপশক্তির প্রভাব থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করা।

Logo