জাপানে বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশটি থেকে বিদেশে পাঠানো রেমিট্যান্স নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে বিদেশে পাঠানো অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৬.২-৬.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা আগের বছরের তুলনায় ১১.৫ শতাংশ বেশি।
২০১৫ সালে জাপান থেকে বিদেশে পাঠানো অর্থের পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৬৪ বিলিয়ন ইয়েন। এক দশকের মধ্যে তা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কোভিড মহামারির সময় সাময়িকভাবে কমলেও ২০২২ থেকে আবার দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।
সবচেয়ে বেশি অর্থ গেছে ভিয়েতনামে, যেখানে প্রায় ২৮৮.৭ বিলিয়ন ইয়েন পাঠানো হয়েছে, যা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৩০ শতাংশ। এরপর রয়েছে ইন্দোনেশিয়া (৮৯.৮ বিলিয়ন ইয়েন) এবং ফিলিপাইন (৬৭.১ বিলিয়ন ইয়েন)। ভিয়েতনাম এককভাবে জাপান থেকে পাঠানো অর্থের সবচেয়ে বড় অংশ পেয়েছে, যা ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় তিন গুণ বেশি।
জাপানে জনসংখ্যা দ্রুত বুড়ো হয়ে যাওয়ায় শ্রমবাজারে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা খাতে বিদেশি শ্রমিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাদের আয় থেকে পাঠানো অর্থ শুধু নিজ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে না, বরং জাপানের শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মীদের উপস্থিতি আরো সুদৃঢ় করছে।
যদিও জাপানের রেমিট্যান্স রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, তবুও এটি এখনো জি৭ দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম। যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩০ গুণ বেশি অর্থ পাঠায়, জার্মানি চার গুণ বেশি, আর ফ্রান্স ও কানাডাও জাপানের তুলনায় অনেক বেশি রেমিট্যান্স পাঠায়।
logo-1-1740906910.png)