Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

রোমানিয়ায় নারী নির্যাতন ও মানব পাচারে ভয়াবহ সংকট

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২৮

রোমানিয়ায় নারী নির্যাতন ও মানব পাচারে ভয়াবহ সংকট

রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে অনুষ্ঠিত CARE সম্মেলনে নারী নির্যাতন ও মানব পাচার নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে eLiberare Association এবং FILIA Center। সম্মেলনে সরকারি প্রতিষ্ঠান, দূতাবাস, এনজিও ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে গৃহসহিংসতার ঘটনায় পুলিশের হস্তক্ষেপ দ্বিগুণ হয়েছে—২০২১ সালে যেখানে সংখ্যা ছিল ৬৬ হাজার, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজারে। এর মধ্যে প্রতি পাঁচটি ঘটনায় একটি ছিল তাৎক্ষণিক ঝুঁকিপূর্ণ। তবে অর্ধেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা অস্থায়ী সুরক্ষা আদেশ নিতে রাজি হননি।

অর্থায়নের ঘাটতির কারণে আশ্রয়কেন্দ্র, চিকিৎসা সনদ ও আইনি সহায়তা পাওয়া ভুক্তভোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। অথচ একই সময়ে নিবন্ধিত প্রাপ্তবয়স্ক ভুক্তভোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৬৩ শতাংশ। FILIA সেন্টারের অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার আন্দ্রেয়া ব্রাগা বলেন, “বিচ্ছিন্ন তথ্য ও উচ্চ হারে মামলা খারিজ হওয়া ভুক্তভোগীদের আস্থা নষ্ট করছে।”

২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মানব পাচার, শিশু পাচার ও শিশু পর্নোগ্রাফির শিকার হয়েছেন ২ হাজার ৭৭৩ জন। এর মধ্যে ৮২ শতাংশই নারী ও কিশোরী। শিশুদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, DIICOT-এর রেকর্ডে ২ হাজার ৮৪৭ জন ভুক্তভোগীর মধ্যে ১ হাজার ৬৮২ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক। শিশু পর্নোগ্রাফির ঘটনায় ৮৩ শতাংশ ছিল মেয়ে। রোমানিয়ান ভুক্তভোগীদের প্রধান গন্তব্য দেশ জার্মানি (২১%), যুক্তরাজ্য (২০%) ও ইতালি (১২%)।

eLiberare-এর প্রেসিডেন্ট ইয়োয়ানা বাউয়ার বলেন, “ভুক্তভোগী যেন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হারিয়ে না যায়। এজন্য সমন্বিত কেস ম্যানেজমেন্ট ও শিশুদের জন্য আলাদা Child Advocate ব্যবস্থা জরুরি।”

অন্য প্রতিবেদনে দেখা যায়, সামনের সারির পেশাজীবীরা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন না। জরিপে অংশ নেওয়া ৩৮৩ জনের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ গত তিন বছরে কোনো বিশেষ প্রশিক্ষণ পাননি। ফলে ভুক্তভোগীরা বারবার তাদের গল্প বলতে বাধ্য হচ্ছেন এবং অনেক সময় বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছেন।

সহ-লেখক ড. এলেনা উঙ্গুরেয়ানু বলেন, “প্রশিক্ষণের অভাব শুধু প্রতিষ্ঠানগত সমস্যা নয়, বরং ভুক্তভোগীর জীবনে বাস্তব কষ্ট তৈরি করছে। তাদের প্রয়োজন ধারাবাহিক সহায়তা, শুধু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়।”

প্রতিবেদনগুলোতে স্পষ্ট হয়েছে, রোমানিয়ায় নারী নির্যাতন ও মানব পাচার মোকাবিলায় এখনো বড় ঘাটতি রয়েছে। তথ্যের বিচ্ছিন্নতা, অর্থায়নের অভাব, প্রশিক্ষণের সীমাবদ্ধতা এবং শিশুদের ঝুঁকি; সব মিলিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এনজিওগুলোর এই গবেষণা ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Logo