জাপান দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি কর্মীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কম মজুরি এবং ইয়েনের দুর্বল মানের কারণে দেশটির প্রতি বিদেশি কর্মীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের শ্রমবাজারে কর্মীর ঘাটতি থাকলেও বিদেশি শ্রমিকরা আর আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জাপানে কাজ করতে আসা বিদেশি কর্মীরা সাধারণত কম মজুরি পান। স্থানীয়দের তুলনায় তাদের আয় কম হওয়ায় অনেকেই অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তুলনামূলক বেশি বেতন পাওয়া যায়। ফলে জাপান এখন আর প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নেই।
জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মান দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে বিদেশি কর্মীরা দেশে টাকা পাঠালে প্রকৃত আয় কমে যায়। উদাহরণস্বরূপ, একজন কর্মী জাপানে যে বেতন পান, তা নিজ দেশে পাঠানোর সময় ডলারের বিপরীতে কমে যায়। এতে তাদের আর্থিক লাভ কমে যায় এবং জাপানে কাজ করার আগ্রহও হ্রাস পাচ্ছে।
জাপানের জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হয়ে পড়ছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং, নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে বিপুল সংখ্যক কর্মীর প্রয়োজন। সরকার বিদেশি কর্মী আনার জন্য বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করেছে। তবে কম মজুরি ও দুর্বল মুদ্রার কারণে অনেকেই জাপানকে এড়িয়ে অন্য দেশে যাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি কর্মীদের জন্য জাপান এখন আর আগের মতো আকর্ষণীয় নয়। দক্ষিণ কোরিয়া বা তাইওয়ানের মতো দেশগুলোতে একই ধরনের কাজের জন্য বেশি বেতন দেওয়া হয়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর ও জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় কর্মীরা সেসব দেশকে বেশি পছন্দ করছেন।
জাপান সরকার বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করতে নতুন ভিসানীতি চালু করেছে। বিশেষ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীদের জন্য আলাদা ভিসা ক্যাটাগরি তৈরি করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু নীতি নয়, বাস্তবে মজুরি বাড়ানো এবং কর্মপরিবেশ উন্নত করা ছাড়া বিদেশি কর্মীদের আকর্ষণ করা সম্ভব নয়।
জাপানের শ্রমবাজারে কর্মীর ঘাটতি দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু কম মজুরি ও দুর্বল ইয়েনের কারণে বিদেশি কর্মীরা আর আগের মতো আগ্রহী নন। ফলে দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে কীভাবে বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করা যায়।
logo-1-1740906910.png)