বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক ভ্রমণ গন্তব্য স্পেন এ বছর প্রথম পাঁচ মাসে ৩৬.৮ মিলিয়ন বিদেশি পর্যটককে স্বাগত জানিয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৫ শতাংশ বেশি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও স্পেনের পর্যটন খাত এই সময়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
স্পেনের জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, শুধু মে মাসেই দেশটিতে ১০.৩ মিলিয়ন আন্তর্জাতিক পর্যটক এসেছে, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৯.৫ শতাংশ বেশি।
জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত যুক্তরাজ্য ছিল স্পেনের সবচেয়ে বড় উৎস বাজার। এ সময়ে দেশটি থেকে ৭ মিলিয়নের বেশি পর্যটক স্পেনে গেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩.৬ শতাংশ বেশি। দ্বিতীয় স্থানে ছিল ফ্রান্স, ৪.৬ মিলিয়ন পর্যটক নিয়ে। জার্মানি কাছাকাছি অবস্থানে ছিল ৪.৫ মিলিয়ন পর্যটক নিয়ে।
এই সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের মোট ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ২৫৭ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৫৭ হাজার ৪৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা আগের বছরের তুলনায় ৭.৮ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণ পুনরুদ্ধার, বিশেষ করে আমেরিকা মহাদেশ থেকে পর্যটক বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক ভ্রমণের পুনরুত্থান এবং নিরাপদ ও স্থিতিশীল গন্তব্যের প্রতি বাড়তি আগ্রহ; এসব কারণেই স্পেনে পর্যটক সংখ্যা বেড়েছে।
২০২৫ সালে স্পেন মোট ৯৬.৮ মিলিয়ন বিদেশি পর্যটককে স্বাগত জানিয়েছিল, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৩.২ শতাংশ বেশি। এভাবে স্পেন বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। প্রথম স্থানে রয়েছে ফ্রান্স, যেখানে গত বছর ১০৫ মিলিয়ন পর্যটক গিয়েছিলেন।
স্পেনের পর্যটন খাত ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছে। নিরাপদ পরিবেশ, সমুদ্রতীরবর্তী শহর, ঐতিহাসিক নগরী ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য দেশটিকে বিশ্ব পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসের সাফল্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২০২৬ সালে স্পেন আরো বড় রেকর্ড গড়তে পারে।
logo-1-1740906910.png)