Logo
×

Follow Us

বিশ্ব

সারাবিশ্বে একযোগে মানব পাচারবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫১

সারাবিশ্বে একযোগে মানব পাচারবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান

মানব পাচারের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের নেতৃত্বে পরিচালিত বৈশ্বিক অভিযানে এক হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৫৯টি দেশে একযোগে পরিচালিত এই অভিযানে যৌন শোষণ, জোরপূর্বক শ্রম, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা এবং ভিক্ষাবৃত্তিতে নিযুক্ত করার মতো অপরাধে জড়িত নেটওয়ার্কগুলোকে টার্গেট করা হয়।

বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল অপারেশন গ্লোবাল চেইন। এতে প্রায় ৪০ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অংশ নেন। অভিযানে মোট ২,০৭০ জন ভুক্তভোগী বা সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৩৪ জন সরাসরি মানবপাচারের অভিযোগে এবং ৬৯০ জন সংশ্লিষ্ট অপরাধে অভিযুক্ত।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারণায় মানুষকে বাধ্য করার একটি নেটওয়ার্ক এবং ইউরোপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌনকর্মে বাধ্য করার একটি চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ ৪০৬ জন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করেছে, যাদের মধ্যে ৮৩ জন ব্রাজিলিয়ান এবং ৩২৩ জন বিদেশি নাগরিক।

আর্জেন্টিনায় দুইজন বলিভিয়ান শিশুকে একটি মুদি দোকানে জোরপূর্বক শ্রমে নিযুক্ত করা হয়েছিল। পুলিশ তাদের উদ্ধার করেছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে বেলজিয়ামে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের আটক করে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করত।

অভিযান চলাকালে দেখা গেছে, অধিকাংশ ভুক্তভোগী যৌন শোষণের শিকার হয়েছেন। প্রায় ২০ শতাংশকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে, ১১ শতাংশকে জোরপূর্বক শ্রমে এবং ২ শতাংশকে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়েছে।

ইন্টারপোল জানিয়েছে, অভিযানের ফলাফল মানব পাচারের নতুন রুট ও কৌশল উন্মোচন করেছে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকার নাগরিকদের ইউরোপে জোরপূর্বক শ্রমে নিযুক্ত করার প্রবণতা বেড়েছে। শনাক্ত ভুক্তভোগীদের জাতীয় সুরক্ষা ও সহায়তা সেবায় পাঠানো হয়েছে। অভিযানের ফলে ৪৬৫টি নতুন তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আরও ২০১ জন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ইন্টারপোলের সেক্রেটারি ভ্যালডেসি উরকুইজা বলেছেন, মানবপাচার এখনো বিশ্বের অন্যতম লাভজনক ও বিস্তৃত সংগঠিত অপরাধ। এটি প্রতি বছর বিলিয়ন ডলার অবৈধ আয় সৃষ্টি করে এবং ভুক্তভোগীদের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করে। তিনি বলেন, এই অভিযান প্রমাণ করেছে যে দেশগুলো একসাথে কাজ করলে অপরাধী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরো শক্তিশালী হয়।

Logo