অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতি; বিনিয়োগ নয়, মানবসম্পদে গুরুত্ব
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫০
অস্ট্রেলিয়া তাদের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসনকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছিল। অর্থাৎ বিদেশি নাগরিকরা রিয়েল এস্টেট, ব্যবসা বা সরকারি অনুমোদিত প্রকল্পে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে অভিবাসনের সুযোগ পেতেন। কিন্তু ২০২৪ সালে বিজনেস ইনোভেশন অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম বন্ধ করার পর দেশটি নতুন দিকনির্দেশনা নিয়েছে।
সরকার এখন চালু করেছে ন্যাশনাল ইনোভেশন ভিসা (NIV)। এই ভিসা উদ্যোক্তা, গবেষক, উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সাফল্য অর্জনকারীদের জন্য। মূল লক্ষ্য হলো অর্থ নয়, বরং মানবসম্পদকে কাজে লাগানো। অস্ট্রেলিয়া মনে করছে, উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নই দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে।
এই পরিবর্তনকে বলা হচ্ছে "ক্যাপিটাল থেকে ক্যাপাবিলিটি"তে রূপান্তর। অর্থাৎ বিনিয়োগের পরিমাণ নয়, বরং একজন ব্যক্তি কতটা উদ্ভাবনী ধারণা দিতে পারে, কতটা প্রযুক্তি উন্নয়ন করতে পারে এবং কতটা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে—এগুলোই হবে মূল্যায়নের মানদণ্ড।
বিশ্ব অর্থনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত উৎপাদন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বায়োটেকনোলজি ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাই অস্ট্রেলিয়া এখন প্রতিযোগিতা করছে দক্ষ উদ্যোক্তা ও গবেষকদের জন্য। সরকার মনে করছে, এ ধরনের মানবসম্পদই ভবিষ্যতে দেশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখবে।
ন্যাশনাল ইনোভেশন ভিসা বিশেষভাবে লক্ষ্য করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, ফিনটেক, কৃষি প্রযুক্তি এবং অন্যান্য উদ্ভাবনভিত্তিক খাতকে। এসব খাতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সাফল্য অর্জনকারীরা অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের সুযোগ পাবেন।
এই পরিবর্তন শুধু অস্ট্রেলিয়ার জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক অভিবাসন নীতির নতুন প্রবণতাকেও প্রতিফলিত করছে। উন্নত দেশগুলো এখন আর শুধু বিনিয়োগকারীদের খুঁজছে না, বরং উদ্ভাবনী ক্ষমতা, গবেষণা ফলাফল, শিল্পে নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার এই নতুন নীতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্যও সুযোগ তৈরি করছে। বিশেষ করে ভিয়েতনামের মতো দ্রুত বেড়ে ওঠা উদ্ভাবনী অর্থনীতির উদ্যোক্তারা এখন তাদের পেশাগত সাফল্যকে অভিবাসনের যোগ্যতা হিসেবে কাজে লাগাতে পারবেন। বিনিয়োগের পরিমাণ নয়, বরং উদ্ভাবনী ক্ষমতা, গবেষণা দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাবই হবে মূল যোগ্যতা।
logo-1-1740906910.png)