Logo
×

Follow Us

বিশ্ব

বেড়ানোর জন্য কেমন দেশ কেপ ভার্দে?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৯

বেড়ানোর জন্য কেমন দেশ কেপ ভার্দে?

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে হারেনি কেপ ভার্দে। ছোট্ট এই দেশ ফুটবলপ্রেমীদের নজর কাড়লেও পর্যটকদের জন্যও এটি এক অজানা স্বর্গ। পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ১০টি আগ্নেয় দ্বীপ নিয়ে গড়ে উঠেছে কেপ ভার্দে। আয়তন মাত্র ৪,০৩৩ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা প্রায় ৬ লক্ষ। সরকারি ভাষা পর্তুগিজ হলেও স্থানীয়রা ‘ক্রিওলু’ ভাষায় কথা বলেন। পর্যটন এলাকায় ইউরো সহজেই ব্যবহার করা যায়।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই দেশ ভ্রমণকারীদের জন্য নানা আকর্ষণ নিয়ে হাজির। সবচেয়ে জনপ্রিয় দ্বীপ হলো Sal Island এবং Boa Vista। নীল জল, সোনালি বালির সৈকত আর ওয়াটার স্পোর্টসের জন্য এগুলো বিখ্যাত। বিশেষ করে Boa Vista বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লগারহেড সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রজননক্ষেত্র। জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যে হাজার হাজার কচ্ছপ এখানে ডিম পাড়তে আসে।

Sal Island-এ রয়েছে ‘Pedra de Lume’-এর বিলুপ্ত আগ্নেয়গিরির গহ্বরে তৈরি প্রাকৃতিক লবণাক্ত হ্রদ। লবণের পরিমাণ এত বেশি যে সাঁতার না জানলেও সহজেই জলে ভেসে থাকা যায়। অনেকেই একে ‘আফ্রিকার ডেড সি’ বলে ডাকেন।

অন্যদিকে Fogo Island ট্রেকিংপ্রেমীদের কাছে স্বপ্নের জায়গা। এখানে রয়েছে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ‘Pico do Fogo’। আগ্নেয়গিরির উর্বর মাটিতে জন্ম নেয় বিখ্যাত ‘Fogo Coffee’। রাজধানী Praia-তে স্থানীয় বাজার, সমুদ্রতীর আর আফ্রিকান-পর্তুগিজ সংস্কৃতির মেলবন্ধন পর্যটকদের আকর্ষণ করে। সন্ধ্যায় ক্যাফেগুলোতে শোনা যায় ইউনেস্কো স্বীকৃত ঐতিহ্যবাহী ‘Morna’ গান।

ঢাকা থেকে কেপ ভার্দেতে সরাসরি কোনো বিমান নেই। সাধারণত দোহা, ইস্তানবুল, লিসবন বা কাসাব্লাঙ্কা হয়ে পৌঁছাতে হয়। পুরো যাত্রায় সময় লাগে প্রায় ২২ থেকে ৩০ ঘণ্টা। ভারতীয় নাগরিকেরা সেখানে ভিসা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পান, তবে যাওয়ার আগে অনলাইনে প্রি-রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক।

আগে থেকে পরিকল্পনা করলে যাওয়া-আসার বিমান ভাড়া সাধারণত ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে থাকে। মাঝারি মানের হোটেল, খাবার আর স্থানীয় যাতায়াত মিলিয়ে ৬-৭ দিনের সফরে মাথাপিছু মোট খরচ প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকার মধ্যে হতে পারে।

Logo