Logo
×

Follow Us

বিশ্ব

যুক্তরাজ্যে আত্মগোপনে আছে মানব পাচারের ‘গডফাদার’

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১৬:২৮

যুক্তরাজ্যে আত্মগোপনে আছে মানব পাচারের ‘গডফাদার’

ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশীকে পাচারের সাথে জড়িত এক ব্যক্তি ভুয়া পরিচয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। ফ্রান্সে মানব পাচারের দায়ে পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এই কুর্দি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি এখন ব্রিটেনে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন এবং সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

ফ্রান্সে অভিবাসী শিবিরের ‘গডফাদার’ নামে পরিচিত টুয়ানা জে. নামের ওই ব্যক্তি বেআইনিভাবে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজও করছেন। বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালান এবং আইনবহির্ভূত কাজে যুক্ত রয়েছেন। অথচ আশ্রয়ের আবেদনকারীরা সাধারণত কাজ করার অনুমতি পান না।

২০১৬ সালে ফ্রান্সের আদালত মানব পাচারের দায়ে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতি সপ্তাহে পাচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ এক লাখ ১০ হাজার ইউরো আয় করতেন। ছোট নৌকা নয়, বরং কার্গো বহনকারী লরির মাধ্যমে অভিবাসীদের পাচার করতেন।

বিবিসির অনুসন্ধানী দল যুক্তরাজ্যের লিংকনশায়ারের ব্ল্যেবি ডিস্ট্রিক্টে তার অবস্থান শনাক্ত করে। প্রথমে তিনি দাবি করেন, ২০০৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন এবং কখনো ফ্রান্সের জেলে ছিলেন না। কিন্তু আদালতের বিচারের ছবি দেখানো হলে তিনি আর অস্বীকার করতে পারেননি।

ফ্রান্সের প্রসিকিউটরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি ডানকের্কের গ্রান্দ সিন্থি ক্যাম্প থেকে পাচারের কাজ করতেন। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে চ্যানেল পারাপারের জন্য পাঁচ হাজার ইউরো করে আদায় করতেন। ধারণা করা হয়, ফ্রান্সের জেল থেকে বের হয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে পৌঁছান এবং আশ্রয়ের আবেদন করেন।

এই ঘটনা যুক্তরাজ্যের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আশ্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, বিদেশে এক বছরের বেশি কারাদণ্ড ভোগ করেছেন এমন কোনো ব্যক্তি সাধারণত আশ্রয়ের যোগ্য নন। অথচ টুয়ানা ভুয়া পরিচয়ে আবেদন করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রেক্সিটের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে তথ্য আদান-প্রদানের চুক্তি বাতিল হওয়ায় অপরাধীদের রেকর্ড যাচাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিবিসির অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, টুয়ানার মতো অন্তত ২০ জন মানব পাচারকারী যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন। তাদের অনেকেই বিদেশে দোষী সাব্যস্ত হলেও ভুয়া নাম-পরিচয় ব্যবহার করে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। কেউ কেউ এখনো পাচারের সাথে জড়িত।

Logo