Logo
×

Follow Us

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতিতে নেই সুস্পষ্ট পরিকল্পনা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০৬

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতিতে নেই সুস্পষ্ট পরিকল্পনা

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। মূল প্রশ্ন হলো, অভিবাসনের সঠিক মাত্রা কত হওয়া উচিত। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো ঐকমত্য নেই। কেউ শূন্য অভিবাসন চান, কেউ চান বছরে ১ লাখ ৩০ হাজার, আবার কেউ চান বাড়ি নির্মাণের সংখ্যার সঙ্গে অভিবাসন মিলিয়ে রাখা। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সম্প্রতি ট্রেজারির দীর্ঘমেয়াদি অনুমান অনুযায়ী ২ লাখ ২৫ হাজারকে গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ ৩ লাখের বেশি অভিবাসন সমর্থন করছেন। দেশটির জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ডেইলি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এত বৈচিত্র্যময় মতামত অনুমান করা যায়, অভিবাসনের মাত্রা নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিবাসন নীতি কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে, অথচ এটি হওয়া উচিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ফল।

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন (NOM)। এটি হলো অভিবাসন ও প্রবাসন মিলিয়ে জনসংখ্যার নিট বৃদ্ধি বা হ্রাস। ২০২৫ সালে NOM ছিল ৩ লাখ ১ হাজার, যা ২০২৪ সালের ৩ লাখ ৩০ হাজার থেকে কিছুটা কম। তবে ২০২৩ সালে এটি ছিল ৫ লাখ ৩০ হাজার।

অনেকে মনে করছেন, অভিবাসন সংখ্যা এখন প্রায় ৩ লাখে স্থিতিশীল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত বিভ্রান্তিকর। কারণ এই সংখ্যা বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন ও প্রবাসনের সমষ্টি, যা স্থিতিশীল নয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার কর্মরত পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে ১২ হাজারের বেশি। একই সময়ে অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের চলাচলও NOM-এ প্রভাব ফেলেছে।

নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের আসা-যাওয়া NOM-এ বড় প্রভাব ফেলে, যা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই NOM সংখ্যাকে ভিত্তি করে অভিবাসন পরিকল্পনা করা ঝুঁকিপূর্ণ।

অভিবাসন সংখ্যা নিয়ে আবাসন বাজারে বড় বিতর্ক রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, অভিবাসন বাড়লে আবাসন সংকট বাড়ে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্থায়ী অভিবাসীরা মূলত ভাড়া বাজারে প্রভাব ফেলেন, বিশেষ করে সিডনি ও মেলবোর্নের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আশপাশে।

অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি এখন অস্থায়ী অভিবাসীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ২০২৫ সালে নিউজিল্যান্ডের নাগরিক, অস্থায়ী দক্ষ কর্মী ও কর্মরত পর্যটকের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার, যেখানে স্থায়ী দক্ষ কর্মীর সংখ্যা মাত্র ৩৩ হাজার। অনুমান করা হচ্ছে, প্রায় ৫ লাখ দক্ষ চাকরি অস্থায়ী অভিবাসীরা পূরণ করছেন। কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও আতিথেয়তা খাতে তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিবাসন নীতি কেবল সংখ্যা নির্ধারণে সীমাবদ্ধ না থেকে পরিকল্পনার ফল হওয়া উচিত। শ্রমবাজারের চাহিদা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়ন, আবাসন, অবকাঠামো ও জ্বালানি; সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে অভিবাসন মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।

২০২৬ সালের জনগণনা থেকে অস্থায়ী অভিবাসীদের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এর ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করা জরুরি। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক হবে, তবে তথ্য ও বিশ্লেষণ স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করলে নীতি আরো কার্যকর হবে।

Logo