দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় ৯০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও অধিকাংশ মিছিল শান্তিপূর্ণ ছিল, তবুও কিছু এলাকায় সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশের উপ-জাতীয় কমিশনার তেবেলো মোসিকিলি জানিয়েছেন, মোট ১২০টি মিছিলের মধ্যে ১০৮টি শান্তিপূর্ণ ছিল, আর ১২টিতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। গ্রেপ্তারের কারণ হিসেবে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন, জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ডাকাতির অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
জোহানেসবার্গের আলেকজান্দ্রা এলাকায় বিদেশি মালিকানাধীন দোকান লুটের সময় একজন নিহত হয়েছেন। ডারবানে এক বিদেশি নাগরিক আতঙ্কে ভবনের অষ্টম তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা যান। এসব ঘটনায় অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক আরো বেড়েছে।
বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে অভিবাসীবিরোধী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের প্রচারণা। তারা দাবি করছে, অবৈধ অভিবাসীরা দক্ষিণ আফ্রিকার বেকারত্ব ও সামাজিক সমস্যার জন্য দায়ী। আফ্রোবারোমিটার জরিপে দেখা গেছে, সাতজনের মধ্যে প্রায় পাঁচজন দক্ষিণ আফ্রিকান অভিবাসীদের অর্থনৈতিক প্রভাবকে নেতিবাচক মনে করেন।
কিছু সংগঠন মাদক ব্যবসা ও অপরাধ বৃদ্ধির জন্যও অভিবাসীদের দায়ী করছে। তবে সরকারি পরিসংখ্যান ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। ২০২৩ সালের জরিপে দেখা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় মোট অভিবাসীর সংখ্যা ৩.১ মিলিয়ন, যা জনসংখ্যার মাত্র ৪.১ শতাংশ। এক দশক আগে এ হার ছিল ৫.৬ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসীদের চাকরি স্থানীয়দের হাতে তুলে দিলেও বেকারত্বের হার মাত্র ৬ শতাংশ কমবে। বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন অভিবাসী কর্মসংস্থান পেলে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্থানীয়দের জন্য আরও দুটি চাকরি তৈরি হয়।
তবুও অর্থনৈতিক সংকট ও বৈষম্য অভিবাসীদের প্রতি ক্ষোভ বাড়াচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বেকারত্বের হার বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ, এবং আয় বৈষম্যও চরম। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লরেন ল্যান্ডাউ বলেছেন, ‘‘অভিবাসীরা অর্থনীতি ধ্বংস করছে না, বরং বিনিয়োগ ও দক্ষতা দিয়ে অবদান রাখছে। কিন্তু মানুষ তাদের পক্ষপাতদুষ্ট ধারণাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।’’
logo-1-1740906910.png)