Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় ব্যবস্থায় শাবানা মাহমুদের নতুন সংস্কার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪০

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় ব্যবস্থায় শাবানা মাহমুদের নতুন সংস্কার

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ আশ্রয় ব্যবস্থায় নতুন সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে একটি আয়ভিত্তিক পরিকল্পনা, যেখানে আশ্রয়প্রার্থীদের রাষ্ট্রীয় সহায়তার খরচ বাবদ প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড পরিশোধ করতে হবে, না হলে তাদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে না। শরণার্থী সহায়তা সংস্থাগুলো এই প্রস্তাবকে ‘‘শরণার্থীদের ওপর কর” হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে।

একই সঙ্গে মাহমুদ নিরাপদ ও বৈধ আশ্রয়পথ দ্রুত চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপের মতো ব্যবস্থা, যা ছোট নৌকায় বিপজ্জনক চ্যানেল পারাপারের প্রবণতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। এই দুটি প্রস্তাবই নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় বিলের অংশ, যা আজ সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

মাহমুদ ২০২৫ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি অবৈধ অভিবাসনকে ‘‘দেশকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে” বলে মন্তব্য করেছিলেন, যা বিতর্ক সৃষ্টি করে। তার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত পরিবারগুলোকে দ্রুত সরিয়ে দেওয়া, ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের অধীনে কিছু দাবি সীমিত করা, স্থানীয় কাউন্সিলের আশ্রয়প্রার্থী সহায়তার দায়িত্ব বাতিল করা এবং বয়স যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা। এ বছরের শুরুতে তিনি শরণার্থী মর্যাদাকে অস্থায়ী করে দেন, যা প্রতি ৩০ মাসে পুনর্বিবেচনা করা হবে।

লেবার দলের অভিজ্ঞ নেতা আলফ ডাবস এই প্রস্তাবগুলোকে ‘‘নিষ্ঠুর প্রদর্শনী” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, আগামী মাসে যদি অ্যান্ডি বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হন, তবে যেন এসব সংস্কার বাতিল করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিল আংশিকভাবে একটি ‘‘যোগাযোগের হাতিয়ার”। লেবার সরকার একদিকে ডানপন্থি ভোটারদের আকৃষ্ট করতে চাইছে, অন্যদিকে নিজেদের সমর্থক বামপন্থি ভোটারদের ধরে রাখার চেষ্টা করছে। ফলে নীতির ভাষা ও বাস্তবায়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।

এদিকে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও দেখা দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা মাইক ট্যাপ অভিবাসী কেয়ার কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা পরিবর্তনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে একটি নিবন্ধ লেখেন। এতে মাহমুদের সঙ্গে তার বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। কেয়ার সেক্টরে কর্মরত অভিবাসীরা জানিয়েছেন, নিয়ম পরিবর্তন তাদের জীবনে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে।

চ্যানেল পারাপার নিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও এ বছর জুন পর্যন্ত আগের বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম মানুষ ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নীতির কারণে এ প্রবণতা কমেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল কঠোরতা নয়, নিরাপদ ও বৈধ পথ তৈরি করলেই অবৈধ প্রবেশ কমানো সম্ভব।

অ্যান্ডি বার্নহাম অভিবাসন নিয়ে ভিন্ন গল্প বলার চেষ্টা করছেন। তিনি মনে করেন, আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেলে রাখা বন্ধ করে স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ বাড়ানো উচিত। এতে অভিবাসন প্রক্রিয়া মানবিক হবে এবং জনগণের আস্থা বাড়বে।

Logo