ব্রিটেনে ৫০ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী ও বিদেশি অপরাধী লাপাত্তা। কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না তাদের। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, এসব ব্যক্তিকে সরকারি নথিতে ‘পলাতক’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন বিদেশি অপরাধীও রয়েছে।
ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এই ‘নিখোঁজ’ ব্যক্তিদের সংখ্যা বর্তমানে আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা অভিবাসীদের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। অনেকেই আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এড়াতে আত্মগোপনে গেছেন। আবার কেউ কেউ অভিবাসন জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ না রেখে নিখোঁজ হয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকার অভিবাসন আইন আরো কঠোর করতে নতুন একটি বিল আনতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত আইনে মানবাধিকার আইনের কিছু বিধান সংশোধন করা হবে, যাতে অবৈধভাবে অবস্থানকারীরা মানবাধিকার বা পারিবারিক জীবনের অধিকার দেখিয়ে বহিষ্কার ঠেকাতে না পারেন। পাশাপাশি আধুনিক দাসত্বের শিকার হওয়ার দাবি তুলে, বহিষ্কার বিলম্বিত করার সুযোগও সীমিত করা হবে।
ব্রিটেনে এই শক্ত অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে সরকার বড় ধরনের বিনিয়োগও করছে। ২০২৮-২৯ সালের মধ্যে অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত, আটক ও বহিষ্কারের বাজেট প্রায় দ্বিগুণ করে ১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন পাউন্ডে উন্নীত করা হবে। একই সঙ্গে এ খাতে কর্মীর সংখ্যা ৪ হাজার ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৭ হাজার ৩০০ করা হচ্ছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার অবৈধ অভিবাসী ও বিদেশি অপরাধীকে যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা আগের সময়ের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি।
ফলে যেসব বাংলাদেশিসহ অন্যান্য বিদেশি নাগরিকের অভিবাসন মামলা চলমান, কিংবা যারা জামিনে রয়েছেন, তাদের জন্য নিয়মিত রিপোর্টিং ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এখন আরো গুরুত্বপূর্ণ হবে। কারণ, নতুন আইন কার্যকর হলে নজরদারি, আটক এবং বহিষ্কার কার্যক্রম আরো জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
logo-1-1740906910.png)