Logo
×

Follow Us

এশিয়া

জাপানে দিন দিন বাড়ছে বিদেশি কর্মীর চাহিদা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪০

জাপানে দিন দিন বাড়ছে বিদেশি কর্মীর চাহিদা

জাপানে জনসংখ্যা দ্রুত কমছে, শ্রমবাজারে তৈরি হচ্ছে বড় সংকট। অথচ দেশটি বিদেশি কর্মীর ওপর নির্ভরশীল হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ভিসা ও আবাসন সংক্রান্ত নিয়ম আরো কঠোর করা হয়েছে। এতে বিদেশি কর্মীরা নিজেদের অবাঞ্ছিত মনে করছেন। ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালের সৃজনা সুনার ২০১৮ সাল থেকে জাপানে কারখানায় কাজ করছেন। তিনি মাসে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ইয়েন আয় করেন। কিন্তু ভিসা নবায়নে প্রতি তিন বছরে ১ লাখ ইয়েন ফি দিতে হবে জেনে তিনি হতবাক। আগে এই ফি ছিল মাত্র ১০ হাজার ইয়েন। তার স্বামী স্পন্দন সুনারও পরিবহন কোম্পানি ও ভাষা স্কুলে কাজ করছেন। তারা বলেন, নিয়ম মেনে কর প্রদান করলেও কাজের স্বাধীনতা ও সুযোগ সীমিত। স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে চাইলে ফি বেড়ে দাঁড়াবে ৩ লাখ ইয়েন, সঙ্গে বার্ষিক আয় থাকতে হবে অন্তত ৩০ লাখ ইয়েন।

জাপানের জনসংখ্যা ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ কোটি ৯৭ লাখ, যা এক বছরে ৯ লাখ ৪১ হাজার কমেছে। তবে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ লাখের বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি কর্মী ছাড়া জাপানের সমাজ টিকবে না।

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির প্রশাসন ২০২৬ সালের শুরুতে বিদেশি নাগরিকদের জন্য কঠোর নীতি চালু করেছে। এতে নাগরিকত্বের জন্য ধারাবাহিক বসবাসের সময় দ্বিগুণ করে ১০ বছর করা হয়েছে এবং স্থায়ী বসবাসের জন্য জাপানি ভাষা দক্ষতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকার বলছে, সঠিকভাবে নিয়ম মানা বিদেশিদের সহায়তা করা হবে, তবে অপব্যবহার রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।

তবে অনেক বিদেশি কর্মী মনে করছেন, এসব নীতি তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। থাইল্যান্ডের গবেষক ইয়ানিকা রুংপাইরোজ বলেন, তিনি জাপানে পিএইচডি শেষ করে কাজ করছেন, কিন্তু নতুন নীতি তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে।

জনমত জরিপে দেখা গেছে, জাপানি কর্মক্ষেত্রে বিদেশির সংখ্যা বাড়ায় ৩৭ শতাংশ মানুষ অসন্তুষ্ট। অনেকেই মনে করেন, বিদেশিদের আচরণ সামাজিক নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে নেতিবাচক মনোভাব বাড়ছে। এই পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে ডানপন্থি দল সানসেইতো “জাপানিজ ফার্স্ট” স্লোগান দিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপান সরকার প্রকাশ্যে বিদেশি কর্মীকে স্বাগত জানালেও বাস্তবে নীতি কঠোর করছে। এতে শ্রম সংকট আরো বাড়তে পারে। নেপালের স্পন্দন সুনার বলেন, “আমাদের থাকার বিকল্প নেই। কিন্তু যদি বিদেশি কর্মীরা চলে যায়, সেটি জাপানের জন্য ক্ষতি হবে।”

Logo