যুক্তরাজ্য আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নতুন বৈধপথ চালুর ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কানাডার মডেল অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও কমিউনিটি সংগঠনগুলো শরণার্থীদের স্পন্সর করার সুযোগ পাবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ২৬ জুন রাতে এ ঘোষণা দেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিভিন্ন সংগঠন ও কিছু ‘বিশ্বস্ত’ বিশ্ববিদ্যালয় শরণার্থীদের স্পন্সর করতে পারবে। ২০২৭ সালের শরৎ মৌসুমে প্রথম দফায় শরণার্থীরা যুক্তরাজ্যে আসতে পারবেন। এছাড়া আগামী বছর থেকে নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে শরণার্থীদের স্পন্সর করার ব্যবস্থাও চালু হবে।
অভিবাসন ও আশ্রয় ইস্যু যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। অভিবাসনবিরোধী জনমতকে কাজে লাগিয়ে কট্টর ডানপন্থি দল রিফর্ম ইউকে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে তিনি সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন এবং জুলাইয়ে অ্যান্ডি বার্নাম নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার অভিবাসন নীতি কেমন হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আগামী সপ্তাহে সংসদে আশ্রয়-সংক্রান্ত আইন আরো কঠোর করার প্রস্তাব উঠতে যাচ্ছে। এতে আবেদন বাতিল হওয়া শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ হবে। এছাড়া পারিবারিক পুনর্মিলনের সুযোগ কেবল ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সীমিত রাখা হবে।
শাবানা মাহমুদ বলেছেন, “আমি প্রকৃত শরণার্থীদের জন্য নতুন বৈধ পথ উন্মুক্ত করব। একই সঙ্গে যেসব ফাঁকফোকর বারবার অপব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো বন্ধ করে দেব।” তিনি জানান, নতুন স্পন্সরশিপ কর্মসূচি ইউকে রিসেটেলমেন্ট স্কিমের তুলনায় অনেক বড় পরিসরে পরিচালিত হবে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউকে রিসেটেলমেন্ট স্কিমে মাত্র ৮০০ জনকে পুনর্বাসন করা হয়েছিল। তবে নতুন কর্মসূচির আওতায় কতজন শরণার্থী সুবিধা পাবেন, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
এর আগে সিরিয়া, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের শরণার্থীদের জন্য বিশেষ স্পন্সরশিপ কর্মসূচি চালু করেছিল যুক্তরাজ্য। তবে চলতি বছরের শুরুতে শরণার্থী মর্যাদাকে সাময়িক করা এবং কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য শিক্ষা ভিসা নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপের কারণে শাবানা মাহমুদ সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
logo-1-1740906910.png)