সন্তানদের বিয়ে নিয়ে উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী পরিবারগুলো
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১১:০৩
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন নির্দেশনার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে সন্তানদের বিয়ে নিয়ে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে বিয়ে করে স্বামী বা স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার প্রচলিত প্রক্রিয়া এখন আগের তুলনায় দীর্ঘ ও জটিল হয়ে পড়েছে।
একসময় অনেক পরিবার দেশে গিয়ে ছেলেমেয়ের বিয়ে দিতেন এবং পরবর্তী সময়ে স্পাউস ভিসার মাধ্যমে নবদম্পতিকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ করে দিতেন। কিন্তু বর্তমানে স্পাউস ভিসা ও গ্রিনকার্ড-সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে দাম্পত্য জীবনে মানসিক চাপ, পারিবারিক অস্থিরতা এবং কর্মজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
প্রবাসী অভিভাবকরা মনে করছেন, দেশে গিয়ে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত পাত্র-পাত্রীর মধ্যেই সম্পর্ক খোঁজার দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বা বেড়ে ওঠা তরুণ-তরুণীদের জন্য বাংলাদেশ থেকে আসা জীবনধারা ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। খাদ্যাভ্যাস, পারিবারিক দায়িত্ব ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় পার্থক্য থেকেও দাম্পত্য জীবনে চাপ তৈরি হতে পারে।
ইউএসসিআইএস সম্প্রতি নির্দেশনা দিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে কনস্যুলার প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। কেবল বিশেষ পরিস্থিতি প্রমাণ করা গেলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে। এতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, অস্থায়ী ভিসাধারী এবং তাদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। আবেদনকারীর অভিবাসন ইতিহাস, আইন মেনে চলার রেকর্ড, তথ্য গোপনের অভিযোগ বা অন্য কোনো জটিলতা থাকলে অনুমোদন কঠিন হতে পারে। বৈধভাবে অবস্থানকারী এবং সঠিক নথিপত্র উপস্থাপনকারীদের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হলেও অতীতে স্ট্যাটাস লঙ্ঘন বা ওভারস্টে থাকলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, নতুন নীতির প্রভাব ইতোমধ্যে অনেক পরিবারের সিদ্ধান্তে পড়তে শুরু করেছে। তাদের পরামর্শ, বিয়ে ও অভিবাসন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করা এবং অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তারা সতর্ক করে বলেছেন, অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া বা প্রতারণামূলক বিয়ে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি করবে।
logo-1-1740906910.png)