Logo
×

Follow Us

উত্তর আমেরিকা

অভিবাসীদের রঙে রঙিন বিশ্বকাপ ২০২৬

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১১:০২

অভিবাসীদের রঙে রঙিন বিশ্বকাপ ২০২৬

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ চলছে উত্তর আমেরিকায়- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। মাঠে প্রতিটি ম্যাচ ২২ জন খেলোয়াড়ের লড়াই হলেও গ্যালারিতে এর প্রেক্ষাপট আরো বিস্তৃত। অভিবাসী সম্প্রদায়গুলো নিজেদের পতাকা, গান আর স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়ামে হাজির হচ্ছে। ফলে এই বিশ্বকাপ হয়ে উঠেছে অভিবাসী সমর্থকদের জন্য এক বিশেষ উৎসব।

মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, মরক্কো, ঘানা, কলম্বিয়া, জাপান কিংবা কেপ ভার্দে; সব দেশের সমর্থকরা নিজেদের জাতীয় সংগীত গাইছেন, পতাকা উড়াচ্ছেন। অনেকের কাছে জাতীয় দল শুধু একটি ফুটবল দল নয়, বরং শৈশবের স্মৃতি, মাতৃভাষার ধ্বনি, পারিবারিক ভোজ আর জন্মস্থানের প্রতীক। তাই নিরপেক্ষ মাঠেও অনেক সময় তা ঘরের মাঠের মতো মনে হয়।

এই বিশ্বকাপে ছোট দলগুলোর উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেপ ভার্দে ও কুরাকাওয়ের মতো দলগুলো হয়তো ফাইনালে পৌঁছাবে না, কিন্তু তাদের অংশগ্রহণ অভিবাসী সম্প্রদায়কে স্বীকৃতি দিয়েছে। গ্যালারিতে তাদের পতাকা, গান আর মুখগুলো বিশ্বকাপকে আরো বৈচিত্র্যময় করেছে।

অভিবাসনের গল্প শুধু গ্যালারিতেই সীমাবদ্ধ নয়, মাঠেও তা প্রতিফলিত হচ্ছে। লুকা জিদান ফরাসি ফুটবল সিস্টেমে বেড়ে উঠলেও আলজেরিয়ার হয়ে খেলছেন। কুরাকাওয়ের গোলরক্ষক এলোয় রুম নেদারল্যান্ডসে জন্ম নিয়েও নিজের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এমনকি আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসির পরিবারও ইতালি থেকে অভিবাসিত হয়ে রোজারিওতে স্থায়ী হয়েছিল।

ফিফা যখন বিশ্বকাপকে ৪৮ দলে সম্প্রসারিত করেছিল, তখন আশঙ্কা ছিল টুর্নামেন্টের আবেদন কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, যত বেশি দল অংশ নিচ্ছে, তত বেশি পতাকা, গান আর জীবনের গল্প ফুটে উঠছে। ছোট দলগুলো হয়তো কেবল একটি গোল বা একটি স্মরণীয় ম্যাচ খেলছে, কিন্তু তাদের সমর্থকদের কাছে প্রতিটি মুহূর্তের অপরিসীম মূল্য রয়েছে।

এই বিশ্বকাপ দেখাচ্ছে, ফুটবল শুধু জয়-পরাজয়ের খেলা নয়। এটি পরিচয়, স্মৃতি আর অভিবাসী জীবনের প্রতীক। আমেরিকা বা কানাডায় জন্ম নেওয়া অনেক শিশু হয়তো মাতৃভাষার চেয়ে ইংরেজি বেশি বলে, কিন্তু খেলার সময় বাবা-মা তাদের মনে করিয়ে দেন- “এটাই আমাদের ঘরের দল।”

Logo