ইতালির রোমে ট্রিপল মার্ডার
প্রবাসী বাংলাদেশি বাবা ও ৫ বছরের শিশুকে হত্যা
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৯:০০
ইতালির রাজধানী রোমে একটি বহুতল আবাসিক ভবনে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নাগরিককে ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক দম্পতি ও তাদের ৫ বছর বয়সী শিশুকন্যা। এই হামলায় পরিবারের বড় ছেলে (১৮) গুরুতর আহত হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন। এই ভয়াবহ ট্রিপল মার্ডারের পর ঘাতককে গ্রেপ্তারে রোমজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি ও চিরুনি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
ইতালীয় সংবাদমাধ্যম রাই নিউজ ও লা রিপাবলিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোমের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিইও-র একটি ফ্ল্যাটে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
অজ্ঞাত পরিচয় এক হামলাকারী ধারালো ছুরি নিয়ে ওই বাংলাদেশি পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রাণ হারান বাংলাদেশি ওই রেমিট্যান্স যোদ্ধা, তার স্ত্রী এবং অবুঝ কন্যাসন্তানটি। হামলার সময় রক্তাক্ত অবস্থায় বাসা থেকে পালিয়ে বা চিৎকার করে সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা করেন পরিবারের ১৮ বছর বয়সী বড় ছেলে। ঘাতক তাকেও ছুরিকাঘাত করে ফেলে রেখে যায়।
আশপাশের বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ এবং কারাবিনিয়েরি (ইতালির বিশেষ পুলিশ ফোর্স)-এর একাধিক দল। জরুরি বিভাগের কর্মীরা এসে মা, বাবা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় ১৮ বছরের তরুণকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত এবং আশঙ্কাজনক কোনো বিপদ নেই। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি রোম পুলিশের স্কোয়াড মোবাইল (Squadra Mobile) শাখা।
এটি কোনো পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নাকি ডাকাতি বা জাতিগত বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ; তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ফরেনসিক ও বৈজ্ঞানিক পুলিশ দল (Polizia Scientifica) ঘটনাস্থলটি সিলগালা করে দিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করছে। ভবনের আশপাশের সব সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খুনিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
রোম পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, "অপরাধী অত্যন্ত নৃশংসভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। পুরো এলাকা অবরুদ্ধ করে খুনিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই ঘটনার তদন্ত করছি"। ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং খুনিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
logo-1-1740906910.png)
