ভিয়েতনাম এখন এশীয় পর্যটকদের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে। ইলেকট্রনিক পেমেন্ট প্রযুক্তি সংস্থা ভিসার সাম্প্রতিক ‘গ্লোবাল ট্রাভেল ইনটেনশনস (জিটিআই) ২০২৬’ সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভ্রমণকারীরা এখন দীর্ঘ ভ্রমণের পরিবর্তে কাছাকাছি গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন এবং পরিকল্পনায় নমনীয়তা, নিরাপত্তা ও ডিজিটাল পেমেন্টকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
বিশ্বব্যাপী ৪৭ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীর ওপর পরিচালিত এই জরিপে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৭ হাজার এবং ভিয়েতনামের এক হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন। ফলাফলে দেখা যায়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ভ্রমণকারীরা আরো বাস্তববাদী হয়ে উঠছেন। তাদের কাছে সুবিধা, নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্ন অর্থপ্রদানের বিকল্পগুলো এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ভিয়েতনাম জাতীয় পর্যটন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে দেশটি ১০.৬ মিলিয়ন আন্তর্জাতিক পর্যটককে স্বাগত জানিয়েছে, যা পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার ৪২ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি পর্যটন শিল্পের পুনরুদ্ধার ও প্রবৃদ্ধির নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
আন্তঃআঞ্চলিক পর্যটনের জনপ্রিয়তা ভিয়েতনামের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে। স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণ, সুলভ খরচ এবং সুবিধাজনক পরিবহন ব্যবস্থার কারণে ভিয়েতনাম ক্রমশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে চীনা পর্যটন বাজারের পুনরুদ্ধার ভিয়েতনামের পর্যটন শিল্পকে আরও এগিয়ে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ডের পাশাপাশি ভিয়েতনামও চীনা পর্যটকদের জন্য অন্যতম গন্তব্য হবে।
ভিসার গবেষণায় দেখা গেছে, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভ্রমণকারীরা পরিচিতি, সুবিধা ও নিরাপত্তার অনুভূতি দেয় এমন গন্তব্যকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬৩ শতাংশই এই অঞ্চলের মধ্যে ভ্রমণ বেছে নিয়েছেন। ভিয়েতনামের পর্যটকদের জন্য জাপান এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য; এরপর রয়েছে থাইল্যান্ড, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও হংকং।
ভিয়েতনামে স্থানীয় খাবার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অন্বেষণের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। পর্যটকরা শুধু বড় শহর নয়, বরং দা নাং ও ন্যা ট্রাং-এর মতো উপকূলীয় শহরেও ভ্রমণ করছেন। বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, রন্ধনশৈলী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভিয়েতনামকে এমন একটি গন্তব্যে পরিণত করছে, যা একই সঙ্গে অভিজ্ঞতা, বিশ্রাম ও অন্বেষণের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম।
ডিজিটাল পেমেন্টও ভিয়েতনামের পর্যটন শিল্পে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করছে। ভ্রমণকারীরা এখন ভিসা, বীমা, স্থানীয় পরিস্থিতি ও অর্থপ্রদানের নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় অর্ধেকই জানিয়েছেন, তারা ভ্রমণ পরিকল্পনায় এআই টুল ব্যবহার করেন। ভিয়েতনামী পর্যটকরা এই ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয়।
logo-1-1740906910.png)