Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

শুধু অমলেটের জন্য বিখ্যাত ফ্রান্সের যে গ্রাম

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ১৫:৪৩

শুধু অমলেটের জন্য বিখ্যাত ফ্রান্সের যে গ্রাম

ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিম উপকূলের নর্মান্ডির মঁ স্যাঁ মিশেল দ্বীপ শুধু তার গির্জা বা জোয়ার-ভাটার খেলার জন্যই নয়, বরং এক কিংবদন্তি অমলেটের জন্যও বিশ্বজোড়া খ্যাতি পেয়েছে। উনবিংশ শতকের শেষভাগে আনেত পুলার ও তার স্বামী ভিক্তর পুলার এই দ্বীপে একটি সরাইখানা খোলেন। ক্লান্ত তীর্থযাত্রীদের জন্য চটজলদি গরম খাবার হিসেবে আনেত তৈরি করতেন নরম, ফুলো ফুলো অমলেট। কাঠের আগুনে তামার প্যানে তৈরি সেই অমলেট দ্রুতই হয়ে ওঠে অতিথিদের প্রিয়।

১৮৮৮ সালের আশপাশে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্য আজও টিকে আছে। স্থানীয় খামারের টাটকা লাল ডিম আর ইসিনি অঞ্চলের হালকা নোনতা মাখন দিয়ে তৈরি হয় অমলেট। কব্জির বিশেষ কায়দায় দীর্ঘ সময় ধরে ফেটানো ডিম, কাঠের আগুনে ধীরে ধীরে রান্না; সব মিলিয়ে অমলেট হয়ে ওঠে তুলতুলে, সুফলের মতো নরম। সময়ের সঙ্গে মেনুতে এসেছে নানা আধুনিক পদ, তবে পুলারের অমলেট এখনো রেস্তোরাঁর মূল আকর্ষণ।

শুধু অমলেট নয়, স্থানীয় উপকরণে তৈরি নানা পদও অতিথিদের মন জয় করেছে। মঁ স্যাঁ মিশেলের লবণাক্ত তৃণভূমির ভেড়ার মাংস, খামারের দেশি মোরগ, বাজরার আস্তরণে ভাজা সি-বাস, কিংবা ব্রিটানির স্যাঁ মালো থেকে ধরা মাছ ও লবস্টার দিয়ে তৈরি ফিশ কেনেল; সবই এখানে পাওয়া যায়। আতিথেয়তার জন্যও বিখ্যাত এই সরাইখানা। অতিথিদের কাছে বিল মেটানো ছিল গৌণ বিষয়, বরং তাদের স্বাচ্ছন্দ্যই ছিল প্রধান।

১৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই রেস্তোরাঁয় এসেছেন শিল্প, সাহিত্য, ক্রীড়া ও রাজনীতির দিকপালরা। সালভাদোর দালি, পাবলো পিকাসো, মেরিলিন মনরো, জ়াক দেরিদা, মার্গারেট থ্যাচার, শার্ল দ্য গল থেকে শুরু করে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ; তালিকা অন্তহীন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নোবেলজয়ী লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে পর্যন্ত এখানে এসেছিলেন।

আনেত পুলার নিজে কখনো দ্বীপের বাইরে বেশি যাননি। অতিথিদের কাছ থেকে ছবি ও সই সংগ্রহ করে সাজাতেন সরাইখানার দেয়াল। আজও সেই ইতিহাসের টুকরো টুকরো অংশ রেস্তোরাঁর অন্দরসজ্জায় ছড়িয়ে আছে। মঁ স্যাঁ মিশেল গ্রামে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে প্রতীকী তামার কড়াই, আর হাসিমুখে অতিথিদের স্বাগত জানানো আনেতের ছবি।

Logo