ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, জার্মানি, বেলজিয়াম ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহনসহ জনজীবনের নানা ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ফ্রান্সে প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে নদী, হ্রদ ও সমুদ্রে নামতে গিয়ে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের অধিকাংশই তরুণ, যারা লাইফগার্ড ছাড়া পানিতে নেমেছিলেন। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মৃত্যুগুলো সরাসরি চলমান তাপপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পিসো এলাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা জুন মাসে অন্যতম তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দক্ষিণ ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ কারণে শত শত স্কুল আগেভাগে ছুটি ঘোষণা করেছে বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেক অভিভাবক শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্কুলগুলোতে ইউনিফর্ম নীতিতে শিথিলতা, অতিরিক্ত পানি সরবরাহ এবং খেলাধুলা সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত তাপের কারণে রেললাইনে সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কায় ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবহন কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ না করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে নদী বা হ্রদে নামার ক্ষেত্রেও সতর্ক করা হয়েছে।
লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশি জালাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক তাপপ্রবাহের পর এবারই এমন পরিস্থিতি দেখছেন। তিনি বলেন, “একসময় লন্ডনের শীত মানেই ছিল তুষারপাত। এখন অনেক বছর কেটে যায়, বরফ দেখা যায় না। অন্যদিকে গ্রীষ্মে তাপমাত্রা প্রতি বছরই নতুন রেকর্ড করছে। আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব চোখের সামনে দেখছি।”
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ বিশ্বের অন্য অঞ্চলের তুলনায় দ্বিগুণ হারে উষ্ণ হচ্ছে। ২০২২ সালের তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে ৭০ হাজারের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। একই বছর যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ায়।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা উষ্ণ বায়ুপ্রবাহ এবং ‘হিট ডোম’ পরিস্থিতি বর্তমান তাপপ্রবাহের জন্য দায়ী। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে তাপপ্রবাহের ঘনত্ব ও তীব্রতা বাড়ছে।
logo-1-1740906910.png)