Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

জার্মানিতে চাকরি খোঁজার নিয়ম

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪৭

জার্মানিতে চাকরি খোঁজার নিয়ম

জার্মানিতে কাজ করতে চাইলে সরকারি তথ্যভাণ্ডার “Make it in Germany” প্রবাসীদের জন্য অন্যতম নির্ভরযোগ্য উৎস। এখানে চাকরি খোঁজা, ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা থেকে শুরু করে দেশে গিয়ে বসবাসের নিয়মাবলি পর্যন্ত সব তথ্য পাওয়া যায়। তবে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে দুটি পথ খোলা আছে- রাষ্ট্রীয় প্লেসমেন্ট সার্ভিস এবং বেসরকারি প্লেসমেন্ট এজেন্সি।

রাষ্ট্রীয় প্লেসমেন্টে দায়িত্ব পালন করে ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির আন্তর্জাতিক সার্ভিস (ZAV)। তারা বিদেশি দক্ষ কর্মী ও জার্মান নিয়োগকর্তাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। নির্দিষ্ট কিছু দেশে বিশেষ প্রকল্পও চালায়, যেখানে নৈতিক নিয়োগ মানদণ্ড মেনে কাজ হয়।

অন্যদিকে বেসরকারি প্লেসমেন্ট এজেন্সির মাধ্যমে চাকরি পাওয়া যায়, তবে এখানে সতর্কতা জরুরি। জার্মান আইনের Social Code (SGB) অনুযায়ী, এজেন্সির সঙ্গে লিখিত চুক্তি বাধ্যতামূলক। চুক্তিতে ফি ও সেবার বিস্তারিত থাকতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কেবল চাকরি নিশ্চিত হলে ফি দিতে হবে, অগ্রিম অর্থ নেওয়া যাবে না। সাধারণ প্লেসমেন্ট ফি সর্বোচ্চ ২ হাজার ইউরো নির্ধারিত। তবে ভাষা কোর্স বা অতিরিক্ত সেবার জন্য আলাদা খরচ হতে পারে।

ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে আইন বলছে, ফি কেবল নিয়োগকর্তা বহন করবে, শিক্ষানবিশ নয়। এছাড়া ক্রস-বর্ডার প্লেসমেন্টে এজেন্সিকে ১০টি বিষয় লিখিতভাবে জানাতে হবে- নিয়োগকর্তার নাম, চাকরির মেয়াদ, কর্মস্থল, কাজের বিবরণ, বেতন, ছুটি, নোটিশ পিরিয়ডসহ অন্যান্য তথ্য।

প্রবাসীদের জন্য সতর্কতা হলো, কোনো এজেন্সি ভিসা নিশ্চিত করতে পারে না। ভিসা আবেদন আলাদাভাবে কর্তৃপক্ষ যাচাই করে। এজেন্সি কখনোই পাসপোর্ট বা আসল নথি রাখতে পারবে না, কেবল কপি জমা দেওয়া উচিত। অনেক সময় চুক্তিতে তিন বছর চাকরি করার শর্ত থাকে; চাকরি পরিবর্তন করলে নিয়োগকর্তার খরচ ফেরত দিতে হতে পারে। তাই চুক্তি ভালোভাবে পড়া জরুরি।

জার্মানিতে পৌঁছানোর পর সমস্যায় পড়লে “Faire Integration” নামের সরকারি পরামর্শ সেবা বিনামূল্যে সহায়তা দেয়। এখানে চাকরি ও সামাজিক নিরাপত্তা আইন বিষয়ে পরামর্শ পাওয়া যায়।

নৈতিক নিয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থা ILO ও IOM কিছু নীতিমালা দিয়েছে; যেমন- নিয়োগ খরচ নিয়োগকর্তা বহন করবে, স্বচ্ছ চুক্তি থাকবে, ডেটা সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। স্বাস্থ্য খাতে ২০২২ সালে চালু হয়েছে “Fair Recruitment Healthcare Germany” নামের মানচিহ্ন, যা নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করা এজেন্সিকে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে অস্থায়ী বা লোন এমপ্লয়মেন্টে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জার্মান Skilled Immigration Act অনুযায়ী, টেম্পোরারি এজেন্সির মাধ্যমে চাকরি করলে সাধারণত ভিসা অনুমোদন দেওয়া হয় না।

জার্মানিতে চাকরি খোঁজার সময় প্রবাসীদের উচিত সরকারি তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করা, চুক্তি ভালোভাবে পড়া এবং অগ্রিম অর্থ প্রদান এড়িয়ে চলা। নৈতিক নিয়োগ মানদণ্ড মেনে চলা এজেন্সি বেছে নিলে ঝুঁকি কমবে এবং প্রবাসীর অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

Logo