Logo
×

Follow Us

বিশ্ব

২০২৫ সালে রেকর্ড পরিমাণ শরণার্থী নিজ বাড়িতে ফিরেছে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:১৫

২০২৫ সালে রেকর্ড পরিমাণ শরণার্থী নিজ বাড়িতে ফিরেছে

২০২৫ সালে বিশ্বে রেকর্ড সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজ দেশে ফিরেছেন। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন, যা এক বছরে সর্বোচ্চ প্রত্যাবর্তন। তবে এই প্রত্যাবর্তনকারীদের অনেকেই সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার মধ্যেই দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।

জাতিসংঘের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এখনো প্রায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। এদের মধ্যে ৬ কোটি ৮৬ লাখ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত (আইডিপি), ২ কোটি ৮৫ লাখ শরণার্থী, ৯০ লাখ আশ্রয়প্রার্থী এবং ৬০ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী।

২০২৫ সালে যারা দেশে ফিরেছেন, তাদের মধ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশই মাত্র পাঁচটি দেশের নাগরিক। এগুলো হলো আফগানিস্তান, সিরিয়া, সুদান, দক্ষিণ সুদান ও ইউক্রেন।

প্রায় ২০ লাখ আফগান নিজ দেশে ফিরেছেন। ইরান ও পাকিস্তানের কঠোর নীতির কারণে বহু আফগান শরণার্থী দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তবে তাদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ফিরে আসা পরিবারের ৮০ শতাংশই দিনে অন্তত একবেলার খাবার বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

বাশার আল-আসাদের পতনের পর প্রায় ১৩ লাখ সিরীয় বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। আরো ২০ লাখ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরেছেন। ফলে বৈশ্বিকভাবে সিরীয় শরণার্থীর সংখ্যা ৬০ লাখ থেকে কমে ৪৯ লাখে নেমে এসেছে। অনেকেই জানিয়েছেন, দেশে নিরাপত্তা ও চলাচলের স্বাধীনতা আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে।

২০২৫ সালে প্রায় ৬ লাখ ৫১ হাজার শরণার্থী এবং ২৯ লাখ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি সুদানে ফিরে গেছেন। গৃহযুদ্ধের কারণে দেশ ছাড়লেও দীর্ঘদিনের কষ্ট ও স্মৃতির টানে তারা আবারো নিজ বাড়িতে ফিরেছেন।

ইউক্রেনে প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার এবং দক্ষিণ সুদানে প্রায় ২ লাখ মানুষ ফিরে গেছেন। যুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতার মধ্যেও তারা নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

২০২৫ সালে শরণার্থীদের দেশে ফেরার সংখ্যা রেকর্ড হলেও বাস্তবতা এখনো কঠিন। অনেকেই বাধ্য হয়ে ফিরেছেন, আবার কেউ কেউ আশার আলোয় নতুন জীবন শুরু করতে চেয়েছেন। তবে ইউএনএইচসিআর সতর্ক করেছে, সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার কারণে এই প্রত্যাবর্তন ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্বে এখনো কোটি কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন, যা মানবিক সংকটের গভীরতা আরো স্পষ্ট করে।

Logo