Logo
×

Follow Us

এশিয়া

প্রশান্ত মহাসাগরের রানী ফিলিপাইন; পর্যটকদের সেরা গন্তব্য

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৩৩

প্রশান্ত মহাসাগরের রানী ফিলিপাইন; পর্যটকদের সেরা গন্তব্য

সাত হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফিলিপাইন এখন বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছেও জনপ্রিয় গন্তব্য। নীলাভ-সবুজ জলরাশি, সাদা বালুর সৈকত, প্রবালপাহাড় আর স্কুবা ডাইভিংয়ের জন্য বিখ্যাত এই দেশ ভ্রমণে গেলে কিছু বিষয় জানা থাকলে সফর হবে আরো সহজ।

বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিলিপাইন ভ্রমণে ভিসা প্রয়োজন। নির্ভরযোগ্য ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন করলে যাচাই শেষে স্টিকার ভিসা পাওয়া যায়। খরচ পড়তে পারে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা। যাত্রার তিন দিন আগে অনলাইনে ই-ট্রাভেল ফরম পূরণ করতে হয়, যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

ঢাকা থেকে ফিলিপাইনে সরাসরি কোনো ফ্লাইট নেই। চায়না সাউদার্ন, থাই এয়ারওয়েজ, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স ও এয়ার এশিয়ার মতো এয়ারলাইন্স এক বা একাধিক ট্রানজিটসহ ম্যানিলা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে। ট্রানজিটে তিন থেকে আট ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতে পারে।

ফিলিপাইন ভালোভাবে ঘুরতে চাইলে ১২ থেকে ১৫ দিন সময় দরকার। দ্বীপপুঞ্জ হওয়ায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটই ভরসা। ফেরি থাকলেও টিকিটের দাম প্রায় কাছাকাছি। এয়ার এশিয়া, সেবু প্যাসিফিক ও ফিলিপাইন এয়ারলাইন্স জনপ্রিয় বাজেট এয়ারলাইন্স।

স্নরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং, কায়াকিং কিংবা র‍্যাফটিং; সব ধরনের ওয়াটার অ্যাকটিভিটির জন্য ফিলিপাইন আদর্শ। সমুদ্রের ওপর ও নিচ থেকে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় এখানে।

বোহলের বনে ক্ষুদ্র প্রাইমেট টারসিয়ের দেখা মিলবে, আবার সমুদ্রের জলে বিশাল হোয়েল শার্কও পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক বন ছাড়াও আছে মনুষ্যসৃষ্ট বনভূমি।

ফিলিপিনোদের প্রধান খাবার ভাত। জাতীয় খাবার ‘অ্যাডোবো’-তে ভাতের সঙ্গে মাংস পরিবেশন করা হয়। সামুদ্রিক খাবারের আধিক্যও রয়েছে। হালাল খাবারের জন্য জলিবি ফুড চেইন নির্ভরযোগ্য। স্থানীয় বেকারিগুলোতে স্বল্প মূল্যে সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়।

ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে তাপমাত্রা কিছুটা কম হলেও শীত নেই। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল শুষ্ক মৌসুম, ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। জুলাই থেকে অক্টোবর বর্ষা ও টাইফুনের মৌসুম, এ সময় এড়িয়ে চলাই ভালো।

দ্বীপে স্কুটি ভাড়া পাওয়া যায়। পাসপোর্ট ও লাইসেন্স জমা রেখে স্বল্প মূল্যে আধা দিন বা পুরো দিনের জন্য স্কুটি ভাড়া নেওয়া যায়। গণপরিবহনে জনপ্রিয় জিপনি নামের ছোট বাস।

স্পেনের উপনিবেশ হলেও ইংরেজি এখানে বহুল ব্যবহৃত। ইমিগ্রেশন অফিসার থেকে শুরু করে সাধারণ বিক্রেতা পর্যন্ত ইংরেজি বলতে পারেন। তাই ভাষা নিয়ে সমস্যা হয় না।

ম্যানিলা থেকে বোহল, অসলব, মোলবোল, সেবু, পালাওয়ান, এল নিডো, কোরন হয়ে আবার ম্যানিলায় ফেরা যায়। ওয়াটার অ্যাকটিভিটিতে আগ্রহীরা বোরাক্যায় আইল্যান্ড বা তুব্বাহাতা রিফ যুক্ত করতে পারেন।

ফিলিপাইন ভ্রমণ মানে প্রকৃতি, সমুদ্র, জীববৈচিত্র্য আর খাবারের বৈচিত্র্যের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। ভিসা, ফ্লাইট, আবহাওয়া ও স্থানীয় পরিবহন সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা থাকলে সফর হবে আরো আনন্দময় ও ঝামেলাহীন।

Logo