ইইউর নতুন অভিবাসন নীতিতে উদ্বেগে ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১৯:২২
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় নীতি কার্যকর হওয়ার পর ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। ১২ জুন থেকে কার্যকর হওয়া মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা চালু করেছে।
নতুন নীতির আওতায় ইউরোপের বাইরে থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, পরিচয় যাচাই ও নিরাপত্তা স্ক্রিনিং করা হবে। একই সঙ্গে বহিষ্কার প্রক্রিয়া আরো সহজ করা হয়েছে। কোনো সদস্য রাষ্ট্র যদি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়, অন্য দেশগুলোও তা মানবে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ভূমধ্যসাগর হয়ে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে প্রবেশের প্রধান পথ ইতালি। এতদিন মানবিক কারণে দেশটি বহু অভিবাসীকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে নতুন নীতির ফলে সেই সুযোগ সীমিত হয়ে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লিবর্নোর মেয়র লুকা সালভেত্তি জানিয়েছেন, সমুদ্রপথে আসা অনেককে তারা আশ্রয় দিয়েছেন, কিন্তু ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অনিয়মিত পথে ইউরোপে প্রবেশ এখন আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তারা বৈধ প্রক্রিয়ায় অভিবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ জুন পর্যন্ত শুধু ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে পৌঁছেছেন প্রায় ৩ হাজার ৮৯৯ বাংলাদেশি। নতুন নীতির ফলে এ ধরনের যাত্রা আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশি অভিবাসীদের উদ্বেগের মূল কারণ হলো, নতুন আইনে বহিষ্কার প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে। এক দেশে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হলে তা অন্য দেশেও কার্যকর হবে। ফলে ইউরোপে অনিয়মিতভাবে প্রবেশকারীদের জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে পড়বে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই নীতি মূলত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্দেশ্যে তৈরি। তবে এর ফলে মানবিক দিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে ইতালির মতো দেশে, যেখানে বহু বাংলাদেশি অভিবাসী কাজ করছেন, তাদের জন্য নতুন আইন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
logo-1-1740906910.png)