ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে অবৈধ অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইইউর সীমান্ত ও কোস্ট গার্ড এজেন্সি ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৩৯ হাজার অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম।
ফ্রন্টেক্স বলছে, অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অভিবাসীদের উৎসদেশগুলোতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে এই পরিবর্তন এসেছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট’ কার্যকর করেছে। এর আওতায় সীমান্তে অভিবাসীদের জন্য অভিন্ন স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ফ্রন্টেক্সের নির্বাহী পরিচালক হান্স লেইটেনস বলেন, নতুন নিয়মের ফলে ইইউ সীমান্তে সবার ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড মেনে চলা হবে।
মধ্য ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটগুলো এখনো সবচেয়ে ব্যস্ত অভিবাসন পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে আফ্রিকান রুটে অভিবাসীর চলাচল সবচেয়ে কমেছে, এ রুটে অনিয়মিত পারাপার ৭১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিপরীতে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে অভিবাসন বেড়েছে ৪৬ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে প্রায় ১ হাজার ৩০০ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা কামিনান্দো ফ্রোন্তেরাস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টায় ১ হাজার ৩১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪২ জন নারী এবং ১২৯ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া ২৭টি নৌকা সাগরে হারিয়ে গেছে।
২০২৫ সালে একই সময়ে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টায় ৩ হাজার ৯০ জন অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছিলেন বা নিখোঁজ হয়েছিলেন। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ এবং পশ্চিম আফ্রিকা উপকূলের মধ্যকার দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার হলেও অভিবাসীরা প্রায়ই মরক্কো থেকে স্পেনের মধ্যকার ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত পথ সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা করেন।
চলতি সপ্তাহে স্পেন সফরকালে পোপ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দুর্দশাকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, মৌরিতানিয়ার মতো জায়গায় পারাপার বন্ধের প্রচেষ্টা জোরদার করায় অভিবাসীরা আরো দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন।
logo-1-1740906910.png)