আর্জেন্টিনা চালু করছে দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম গোল্ডেন পাসপোর্ট
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১০
আর্জেন্টিনা ২০২৬ সালে দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম গোল্ডেন পাসপোর্ট প্রোগ্রাম চালু করতে যাচ্ছে। নাগরিকত্ব-বিনিয়োগ কর্মসূচি হিসেবে এটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ডিক্রি ৫২৪/২০২৫ স্বাক্ষর করে এর আইনি ভিত্তি তৈরি করেন।
এই প্রোগ্রামের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো মাত্র ৩০ কার্যদিবসে নাগরিকত্ব অনুমোদন। ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্রুততম প্রোগ্রামের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে আর্জেন্টিনা এ উদ্যোগ নিয়েছে।
আর্জেন্টিনার পাসপোর্ট বর্তমানে বিশ্বে ১৬তম স্থানে রয়েছে। এটি দিয়ে ১১৪টি দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণ করা যায়। এছাড়া মার্কোসুর ব্লকের দেশগুলো ব্রাজিল, উরুগুয়ে, চিলি, কলম্বিয়া, পেরু ও ইকুয়েডরে অবাধ ভ্রমণ ও বসবাসের সুযোগ পাওয়া যাবে।
যদিও বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ও খাত এখনো ঘোষণা হয়নি, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন আর্জেন্টিনা প্রযুক্তি, পর্যটন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেবে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায় বিনিয়োগ, সরকারি বন্ডে অর্থ প্রদান বা রিয়েল এস্টেট ক্রয়ের সুযোগও থাকতে পারে।
সরকার সাতটি ভিন্ন বিনিয়োগ ক্যাটাগরি বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে একটি প্রি-অ্যাপ্রুভাল রেজিস্ট্রি চালু হতে পারে, যেখানে স্থানীয় কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মূলধন গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করতে পারবে।
প্রোগ্রামটি ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ২০২৭ সালের শুরুতেই প্রথম নাগরিকত্ব প্রদান করা হতে পারে।
প্রধান বিনিয়োগকারীর সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা বিনামূল্যে যুক্ত হতে পারবেন। ফলে এটি শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং পারিবারিকভাবে স্থায়ী বসবাস ও নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।
আর্জেন্টিনার গোল্ডেন পাসপোর্ট প্রোগ্রাম দক্ষিণ আমেরিকার অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। দ্রুত প্রসেসিং, ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা এবং পরিবারের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ এটিকে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলবে। তবে বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট শর্ত ঘোষণার পরই এর পূর্ণ কাঠামো স্পষ্ট হবে।
logo-1-1740906910.png)