Logo
×

Follow Us

বিশ্ব

যে দেশগুলোতে বাড়ি কিনলেই রেসিডেন্সি: প্রবাসীদের জন্য নতুন সুযোগ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৩১

যে দেশগুলোতে বাড়ি কিনলেই রেসিডেন্সি: প্রবাসীদের জন্য নতুন সুযোগ

বিদেশে স্থায়ী বসবাস বা নাগরিকত্ব পাওয়ার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। তবে ভিসা ও আইনি জটিলতা সেই স্বপ্নকে কঠিন করে তোলে। এখন অনেক দেশ রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের মাধ্যমে রেসিডেন্সি বা নাগরিকত্বের সুযোগ দিচ্ছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থে বাড়ি বা সম্পত্তি কিনলেই দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়, আর কয়েক বছরের মধ্যে নাগরিকত্বের আবেদন করার সুযোগও তৈরি হয়।

গ্রিস

গ্রিসে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করলে পাঁচ বছরের রেসিডেন্সি পারমিট পাওয়া যায়। ন্যূনতম বিনিয়োগ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো। এই পারমিট অনির্দিষ্টকাল নবায়ন করা যায় এবং সাত বছর বসবাসের পর নাগরিকত্বের আবেদন করা সম্ভব।

পর্তুগাল

পর্তুগালের জনপ্রিয় “গোল্ডেন ভিসা” প্রোগ্রামের মাধ্যমে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করলে রেসিডেন্সি পাওয়া যায়। ন্যূনতম বিনিয়োগ ৫ লাখ ইউরো। পাঁচ বছর বসবাসের পর নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়।

স্পেন

স্পেনে রিয়েল এস্টেটে কমপক্ষে ৫ লাখ ইউরো বিনিয়োগ করলে রেসিডেন্সি পারমিট পাওয়া যায়। প্রথমে এক বছরের ভিসা দেওয়া হয়, পরে দুই বছরের জন্য নবায়ন করা যায়। ১০ বছর বসবাসের পর নাগরিকত্বের আবেদন করা সম্ভব।

সাইপ্রাস

সাইপ্রাসে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ী রেসিডেন্সি পাওয়া যায়। ন্যূনতম বিনিয়োগ ৩ লাখ ইউরো। বছরে অন্তত একবার দেশটিতে যেতে হয়। সাত বছর বসবাসের পর নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়।

মাল্টা

মাল্টায় রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকারকে নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করতে হয়। ন্যূনতম বিনিয়োগ ৩ লাখ ৫০ হাজার ইউরো। এক বছরের রেসিডেন্সির পর নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়।

হাঙ্গেরি

হাঙ্গেরি রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি রেসিডেন্সি দেয়। ন্যূনতম বিনিয়োগ ২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো। কয়েক বছরের বসবাস শেষে নাগরিকত্বের আবেদন করা সম্ভব।

তুরস্ক

তুরস্কে নাগরিকত্ব পেতে হলে কমপক্ষে ৪ লাখ ডলারের সম্পত্তি কিনতে হবে এবং তিন বছর বিক্রি করা যাবে না। দেশটি ঐতিহাসিক শহর ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। নাগরিকত্বের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়া যায়।

ডোমিনিকা

ক্যারিবীয় দ্বীপ ডোমিনিকায় সরকার অনুমোদিত প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। ন্যূনতম বিনিয়োগ ২ লাখ ডলার। বিনিয়োগ তিন বছর ধরে রাখতে হবে। তুলনামূলকভাবে এটি সবচেয়ে কম খরচের নাগরিকত্ব কর্মসূচি।

সেন্ট কিটস ও নেভিস

এই দ্বীপ রাষ্ট্রের পাসপোর্ট ক্যারিবীয় অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী। এখানে আয়কর বা সম্পদ কর নেই। অনুমোদিত কন্ডো বা হোটেল শেয়ারে বিনিয়োগের ন্যূনতম সীমা ৩ লাখ ২৫ হাজার ডলার। একক বাড়ি কিনতে চাইলে খরচ হবে ৬ লাখ ডলার। সম্পত্তি সাত বছর ধরে রাখতে হবে। নাগরিকত্ব পেলে সরকারকে অন্তত ২৫ হাজার ডলার ফি দিতে হয়।

অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা

এখানে নাগরিকত্ব পেতে হলে অনুমোদিত প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে হবে। ন্যূনতম বিনিয়োগ ৩ লাখ ডলার। নাগরিকত্ব পাওয়ার পর প্রথম পাঁচ বছরে অন্তত পাঁচ দিন দেশটিতে থাকতে হবে এবং সম্পত্তি পাঁচ বছর বিক্রি করা যাবে না।

বিদেশে স্থায়ী বসবাস বা নাগরিকত্বের জন্য রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ এখন একটি কার্যকর পথ হয়ে উঠেছে। গ্রিস, পর্তুগাল, স্পেন, সাইপ্রাস, মাল্টা ও হাঙ্গেরি; এই দেশগুলোতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থে সম্পত্তি কিনলে রেসিডেন্সি পাওয়া যায় এবং কয়েক বছরের বসবাস শেষে নাগরিকত্বের সুযোগ তৈরি হয়। প্রবাসীদের জন্য এটি একটি বড় সুখবর। কারণ এতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, ভ্রমণ সুবিধা ও নতুন জীবনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

Logo