Logo
×

Follow Us

বিশ্ব

যুদ্ধ-মহামারি-দুর্যোগ: ২০৬৪ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা নামতে পারে অর্ধেকে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ১০:২৭

যুদ্ধ-মহামারি-দুর্যোগ: ২০৬৪ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা নামতে পারে অর্ধেকে

একটি নতুন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, বৈশ্বিক পরিবেশ সংকট তীব্র হলে ২০৬৪ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। ইতালির মিলান বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আলেসিও জ্যাকোনে এবং প্রয়াত সহকর্মী কস্তিয়া ট্রাচেঙ্কো এই মডেলটি তৈরি করেছেন। তাদের গবেষণা আন্তর্জাতিক জার্নাল Chaos, Solitons & Fractals-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় একটি অরৈখিক "রেট-ফিডব্যাক" সমীকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা গত ১২ হাজার বছরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। প্রচলিত জনসংখ্যা মডেল যেখানে কেবল সূচকীয় বা লজিস্টিক বৃদ্ধিকে ব্যাখ্যা করে, সেখানে এই নতুন মডেল একই কাঠামোর মাধ্যমে বিভিন্ন যুগের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা তুলে ধরতে পারে।

গবেষকরা দেখিয়েছেন, শিল্প বিপ্লবের সময় দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা এবং ১৯৭০-এর পর থেকে ধীরগতির বৃদ্ধি—দুটিই এই মডেল দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। এমনকি ১৯৬০ সালে হেইঞ্জ ভন ফোরস্টার যে "ডুমসডে" পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, যেখানে জনসংখ্যা ২০২৬ সালের মধ্যে অসীমে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, সেই গাণিতিক কাঠামোকেও নতুন মডেল ব্যাখ্যা করতে পারে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা স্থিতিশীল এবং কোনো বিপর্যয়কর পতনের ইঙ্গিত নেই। তবে যদি জলবায়ু বিপর্যয়, মহামারি, সংঘাত বা খাদ্য সংকটের কারণে পৃথিবীর ধারণক্ষমতা হঠাৎ কমে গিয়ে মাত্র ২০০ কোটি মানুষের জন্য সীমিত হয়ে যায়, তাহলে জনসংখ্যা দ্রুত কমে যেতে পারে। এ অবস্থায় ২০৬৪ সালের মধ্যে বিশ্ব জনসংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, এটি কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়, বরং একটি গাণিতিক সম্ভাবনা। উদ্দেশ্য হলো দেখানো যে জনসংখ্যার ধারা কতটা সংবেদনশীল হতে পারে পরিবেশ ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রতি।

এই মডেলটি শুধু জনসংখ্যা নয়, বরং পদার্থবিজ্ঞানের ধারণা ব্যবহার করে সমাজবিজ্ঞানকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ তৈরি করেছে। যেমন কাচ বা অ্যামরফাস কঠিন পদার্থের পরমাণু গতিবিধি যেভাবে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়, ঠিক তেমনভাবেই মানব সমাজের বৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতাও ব্যাখ্যা করা যায়।

Logo