দক্ষিণ আফ্রিকায় আবারো অভিবাসীবিরোধী হামলার ঢেউ দেখা দিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন শহরে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি, হয়রানি, চাকরি হারানো এবং সহিংসতা বাড়ছে। জোহানেসবার্গ, প্রিটোরিয়া ও ডারবানে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসনবিরোধী আন্দোলন ও ভিজিলান্টি গ্রুপগুলোর কার্যক্রম তীব্র হয়েছে।
অপারেশন দুদুলা ও মার্চ অ্যান্ড মার্চ নামের দুটি অভিবাসনবিরোধী সংগঠন নথিবিহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি করে আন্দোলন চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বার্তা ও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এসব সংগঠন বিদেশিদের ৩০ জুনের মধ্যে দেশ ছাড়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
কোপানাং আফ্রিকা এগেইনস্ট জেনোফোবিয়ার (KAAX) মিডিয়া সমন্বয়ক মাইক ন্ডলোভু জানিয়েছেন, অভিবাসীরা প্রতিদিনই মৌখিক গালাগাল, উচ্ছেদ, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, পুলিশের চাঁদাবাজি এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চনার মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। অনেক সময় তাদের পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়, এমনকি শারীরিক হামলারও শিকার হতে হয়।
দারিদ্র্য, বৈষম্য ও বেকারত্বে জর্জরিত টাউনশিপ ও শহরাঞ্চলে অভিবাসনবিরোধী আন্দোলন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। দেশটির কিছু রাজনৈতিক দল অভিবাসীদের চাকরি ও জনসেবার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরছে। কনসোর্টিয়াম ফর রিফিউজিস অ্যান্ড মাইগ্রান্টস ইন সাউথ আফ্রিকার সদস্য এমফো মাখুবেলা বলেন, ভিজিলান্টি গ্রুপগুলো আসলে মানুষের হতাশা থেকে জন্ম নিচ্ছে।
এই সহিংসতার মানবিক প্রভাবও ভয়াবহ। জিম্বাবুইয়ের নাগরিক মপফু জানান, প্রিটোরিয়ায় কাজ করার সময় তাকে ভিজিলান্টি গ্রুপের মুখোমুখি হতে হয়। পরে তার কর্মস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নথিবিহীন কর্মীদের চাকরি চলে যায়। তিনি এখন অনানুষ্ঠানিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অন্যদিকে, ডারবানের অভিবাসী খুমালো জানান, সহিংসতায় অনেক বিদেশি পরিবার ঘরবাড়ি ও ব্যবসা হারিয়েছে। তিনি নিজেও চাকরি হারিয়ে পরিবারে সংকটে পড়েছেন।
সরকার বলছে, বিদেশিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারি মুখপাত্র নোমোন্ডে ম্নুকওয়া জানিয়েছেন, অভিবাসন আইন পর্যালোচনা করা হচ্ছে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আধুনিক করা হচ্ছে এবং জবাবদিহিতা বাড়ানো হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাও বলেছেন, অভিবাসীদের লক্ষ্য করে সহিংসতা আইনবিরুদ্ধ।
তবে অভিবাসনবিরোধী সংগঠনগুলো দাবি করছে, নথিবিহীন অভিবাসীরা চাকরি ও সেবায় চাপ বাড়াচ্ছে এবং অপরাধে জড়িত। অন্যদিকে জাতিসংঘ ও আফ্রিকান কমিশন দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষকে অভিবাসীদের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
logo-1-1740906910.png)