অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বাড়ছে বিদ্বেষ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৯:৫৭
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও বৈষম্যও বাড়ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো ভারতীয়রা দেশটির সবচেয়ে বড় বিদেশে জন্ম নেওয়া জনগোষ্ঠী হয়ে উঠেছে। অস্ট্রেলিয়ার মোট ৮.৮৩ মিলিয়ন বিদেশে জন্ম নেওয়া বাসিন্দার মধ্যে ৯৭১,০২০ জনের জন্ম ভারতে। এসবিএস নিউজের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে।
যদিও এই সংখ্যার আড়ালে ভারতীয় সম্প্রদায়ের জন্য বাস্তবতা অনেক কঠিন হয়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, গণপরিবহনে, কর্মস্থলে এবং প্রতিবেশী মহলে “অতিরিক্ত ভারতীয়”, “অস্ট্রেলিয়া ভরে গেছে” কিংবা “বাড়ি ফিরে যাও” ধরনের মন্তব্য এখন নিয়মিত শোনা যাচ্ছে। মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি হিউ ডি ক্রেটসার সতর্ক করে বলেছেন, বাড়তে থাকা বর্ণবাদ ও রাজনৈতিক বিভাজন সামাজিক সংহতিকে দুর্বল করছে।
গবেষণা বলছে, অভিবাসীদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব বাড়ছে। ২০২৫ সালের ম্যাপিং সোশ্যাল কোহেশন জরিপে দেখা গেছে, ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা ভারতীয় অভিবাসীদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। একই সময়ে এশীয় ও আফ্রিকান অভিবাসীদের মধ্যে দুই জনের একজন গত এক বছরে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। সিডনিভিত্তিক কমিউনিটি নেতা অমর সিং বলেন, “প্রায় তিন দশকে আমি এতটা প্রকাশ্য বর্ণবাদ দেখিনি।”
ভারতীয় অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়ার পেছনে মূল কারণ শিক্ষা ও দক্ষতাভিত্তিক অভিবাসন। যুক্তরাজ্য থেকে আবেদন কমে যাওয়া এবং চীনের শিক্ষার্থীদের নিজ দেশে সুযোগ বাড়ার ফলে ভারতীয়দের আবেদন বেড়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে অনেক ভারতীয় বিদেশে পড়াশোনা ও কাজের সুযোগ নিতে পারছেন।
রাজনৈতিক বিতর্কও এই বিদ্বেষকে উসকে দিচ্ছে। “মাস মাইগ্রেশন” বা “অস্ট্রেলিয়া দ্রুত বদলে যাচ্ছে” ধরনের বক্তব্য জনমনে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। ২০২৫ সালে লিবারেল সিনেটর জাসিন্তা প্রাইসের ভারতীয় অভিবাসীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে দলীয় ফ্রন্টবেঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে ভারতীয় সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, এই বিদ্বেষ মূলত একটি ক্ষুদ্র অংশের মানুষ থেকে আসছে, যারা অজ্ঞতা ও ভুল তথ্যের কারণে এমন আচরণ করছে। ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাসান শ্রীনিবাসন বলেন, “গ্রিক, ইতালীয়, ভিয়েতনামি, চীনারা সবাই একসময় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এখন আমাদের পালা।”
গবেষকরা মনে করেন, অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও অধিকাংশ অস্ট্রেলীয় এখনো বহুসংস্কৃতিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। অভিবাসীরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইটি ও হসপিটালিটি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। কিন্তু জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে অভিবাসীদের দায়ী করা হলে সামাজিক বিভাজন আরো গভীর হবে।
ভারতীয় অভিবাসীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় লড়াই এখন শুধু সংখ্যার নয়, বরং গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচয়ের প্রশ্নে দাঁড়িয়েছে। তারা বলছেন, “আমরা অস্ট্রেলীয়, শুধু ভারতীয় পটভূমি থেকে আসা অস্ট্রেলীয়।”
logo-1-1740906910.png)