জাপান সরকার অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশিদের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। দেশটির ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সি (ISA) ২২ মে নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যেখানে যৌথ অভিযান জোরদার, স্বাধীনভাবে পরিচালিত অভিযান, তথ্য প্রদানে উৎসাহ এবং সাইবার টহল বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
গত বছর চালু হওয়া “জিরো ইলিগ্যাল ফরেন রেসিডেন্টস প্ল্যান” বা সংক্ষেপে “জিরো প্ল্যান” এর আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি গত নভেম্বরে বিচারমন্ত্রী হিরোশি হিরাগুচিকে এ উদ্যোগ আরো জোরদার করার নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় নতুন করে পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে এবং আইএসএ সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশ করে।
নতুন প্যাকেজে আগের মতোই ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন সিস্টেম (JESTA) দ্রুত চালু করা, শরণার্থী স্ক্রিনিং দ্রুততর করা, অভিবাসন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজ করা, স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ এবং সরকারি অর্থায়নে বহিষ্কার কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এবার বিশেষভাবে অভিযান জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আইএসএ জানিয়েছে, তারা সাইবার টহল বাড়াবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া রেসিডেন্স কার্ড বা অন্যান্য অবৈধ কার্যক্রম শনাক্তে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। এ জন্য একটি বিশেষ ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
অবৈধভাবে বিদেশিদের কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে এ বছর আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়োগকর্তা ও দালালদের জন্য শাস্তি বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে অবৈধভাবে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ করলে তিন বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৩০ লাখ ইয়েন জরিমানা করা হয়। ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে এই শাস্তি বাড়িয়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ইয়েন জরিমানা করা হবে।
আইএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত জাপানে অবৈধভাবে অবস্থানকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার ৪৮৮ জন, যা এক বছর আগে ছিল প্রায় ৭৪ হাজার ৮৬৩ জন। ২০২৫ সালে বহিষ্কার প্রক্রিয়ার আওতায় থাকা বিদেশিদের মধ্যে ১৩ হাজার ৪৩৫ জনকে অবৈধভাবে কাজ করতে দেখা গেছে, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৭৩ শতাংশ।
logo-1-1740906910.png)