চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশিসহ মোট ১৬ জন অভিবাসীকে আটক করেছে রোমানিয়া। তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে রাজধানী বুখারেস্টের ওতোপেনি পাবলিক কাস্টডি সেন্টারের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। ১৯ মে এক বিজ্ঞপ্তিতে রোমানিয়ার অভিবাসন দপ্তর (আইজিআই) এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আটক হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশ, নেপাল, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। একই সময়ে সীমান্ত পুলিশের সদস্যরা ২০টি জোরপূর্বক প্রত্যাবর্তন বা ডিপোর্ট কার্যকর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল অনিয়মিতভাবে সীমান্ত অতিক্রম, সীমান্ত পেরোনোর চেষ্টা এবং প্রতারণার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সীমান্ত অতিক্রম।
রোমানিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশিদের পাবলিক কাস্টডিতে রাখা মূলত একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চলাচলের স্বাধীনতা সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়, যাতে তাদের নিজ দেশে বহিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। সাধারণত বুখারেস্ট আপিল আদালতের অধীনস্থ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের অনুরোধে ৩০ দিনের জন্য এই আটকাদেশ জারি করা হয়।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে রোমানিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপের সেনজেন অঞ্চলের স্থলসীমান্তেও যুক্ত হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের মার্চ থেকে দেশটির সমুদ্র ও আকাশসীমা সেনজেনের অন্তর্ভুক্ত হয়। ফলে এখন রোমানিয়ার রেসিডেন্স পারমিটধারীরা সেনজেন জোনে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। তবে তারা চাইলেই ভিসা ছাড়া সড়ক বা বিমান পথে অন্য দেশে যেতে পারবেন না।
সেনজেনে প্রবেশের পর রোমানিয়া সীমান্তে নজরদারি আরো কঠোর করেছে। ফলে অনিয়মিতভাবে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীরা সহজেই ধরা পড়ছেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন নিয়ম অভিবাসীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলে দ্রুত আটক ও ডিপোর্টের ঝুঁকি বাড়ছে।
logo-1-1740906910.png)