Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

জার্মানিতে অভিবাসীদের আয়ে বৈষম্য

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৯:০৮

জার্মানিতে অভিবাসীদের আয়ে বৈষম্য

জার্মানিতে অভিবাসীদের আয় নিয়ে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। নেচার জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, অভিবাসীরা গড়পড়তায় স্থানীয়দের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কম আয় করেন। বিশেষ করে নারীরা এই বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রথম প্রজন্মের বিদেশি কর্মীরা স্থানীয়দের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম আয় করেন। দ্বিতীয় প্রজন্মের অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও এই ব্যবধান রয়েছে ৭.৭ শতাংশ। তবে এটিকে কিছুটা উন্নতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাষা শেখা, স্থানীয় শিক্ষা গ্রহণ এবং কর্মক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক তৈরি করার মাধ্যমে তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়ে এবং উচ্চ বেতনের চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, অভিবাসীদের উচ্চ বেতনের চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ কম থাকাই বৈষম্যের প্রধান কারণ। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ব্যবধান এর জন্য দায়ী। এছাড়া পদোন্নতির সুযোগও তাদের জন্য সীমিত। বাকি এক-চতুর্থাংশ বৈষম্য আসে সরাসরি নিয়োগকর্তাদের পক্ষপাত থেকে, যেখানে একই পদে অভিবাসীদের স্থানীয়দের তুলনায় কম বেতন দেওয়া হয়।

বিদেশি নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় নারীরা পূর্ণসময়ের চাকরিতে গড়ে ৩ হাজার ৯০০ ইউরো আয় করেন, যেখানে বিদেশি নারীরা আয় করেন প্রায় ১ হাজার ইউরো কম, অর্থাৎ ২ হাজার ৯০০ ইউরো। সর্বশেষ গবেষণায় দেখা গেছে, অভিবাসী নারীদের আয় স্থানীয় নারীদের তুলনায় ঘণ্টায় ৪১ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে। স্থানীয় পুরুষদের তুলনায় এই ব্যবধান আরো বেশি, ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত। বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপ থেকে আসা অভিবাসী নারীরা এবং আশ্রয়প্রার্থী নারীরা এই বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, অভিবাসীরা সাধারণত পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা কেয়ারগিভার হিসেবে কাজ করেন, যেখানে বেতন কম। অনেক সময় তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বেশি হলেও সেই যোগ্যতা জার্মানিতে স্বীকৃত হয় না। বিদেশি ডিগ্রি স্থানীয় ডিগ্রির সমতুল্য হিসেবে গ্রহণ করতে হলে অতিরিক্ত পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিতে হয়। ভাষাগত দক্ষতা না থাকায় অনেকেই দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন না। ফলে তারা কম বেতনের কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হন।

Logo