অভিবাসী ফেরত পাঠানোয় ইইউতে শীর্ষ দেশ জার্মানি, দ্বিতীয় ফ্রান্স
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৯:০৭
ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে কঠোর অবস্থান জোরদার করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে অভিবাসী ফেরত পাঠানোর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ফ্রান্স। ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, গত বছর ফ্রান্স থেকে ১৪ হাজার ৯৪০ জন তৃতীয় দেশের নাগরিককে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ইউরোস্ট্যাটের অভিবাসন আইন প্রয়োগসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেরত পাঠানোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জার্মানি। দেশটি ২০২৫ সালে ২৯ হাজার ২৯৫ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা সুইডেন থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে ১১ হাজার ২৫০ জনকে।
২০২৫ সালে ইইউভুক্ত দেশগুলো মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬০ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৪০ জন। অর্থাৎ এক বছরে ফেরত পাঠানোর হার বেড়েছে ২০ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে ইউরোপের বহিঃসীমান্তেও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ জনকে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।
তবে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ‘অবৈধভাবে অবস্থানরত’ মানুষের সংখ্যা কমেছে। ২০২৪ সালে যেখানে এ সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ১৮ হাজার ৫২৫ জন, সেখানে ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৯ হাজার ৩৯৫ জনে। অর্থাৎ এক বছরে এ সংখ্যা কমেছে ২১ দশমিক ৭ শতাংশ।
২০২৫ সালে ইইউ দেশগুলো ৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৫০ জন তৃতীয় দেশের নাগরিককে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৯৮৫ জন। ফলে দেশত্যাগের নির্দেশ বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্যে দেখা গেছে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন তুরস্কের নাগরিক। মোট ১৩ হাজার ৪০৫ জন তুর্কি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জর্জিয়ার ১০ হাজার ৪৭৫ জন, সিরিয়ার ৮ হাজার ৩৭০ জন এবং আলবেনিয়ার ৮ হাজার ২০ জন নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপজুড়ে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে এখন আরো কঠোর নীতির দিকে ঝুঁকছে ইইউ। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার, দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং তৃতীয় দেশের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সদস্য দেশগুলো।
logo-1-1740906910.png)