Logo
×

Follow Us

বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ শর্ত মানবে কি ইরান? নাকি সংঘাত অবশ্যম্ভাবী

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ১৮:১৭

যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ শর্ত মানবে কি ইরান? নাকি সংঘাত অবশ্যম্ভাবী

আমেরিকার সাথে একটা ডিলে আসতে ইরানের ওপর চাপ বাড়ছে। ইরানের ১০ শর্তের বিপরীতে আমেরিকা দিয়েছে কঠিন ৫ শর্ত। শর্তের মধ্যে রয়েছে, ইরানের কাছে থাকা ৪০০ কেজি ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া, একটি ছাড়া বাকি সব পরমাণু কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া, যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধের কোনো ক্ষতি পূরণ দেবে না, বিদেশে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের সম্পদ ফেরত দেবে না আমেরিকা, আর যুদ্ধবিরতি ও পরবর্তী সমঝোতা আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে। 

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব শর্ত ইরানের কাছে কেবল প্রযুক্তিগত নয়, বরং সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়ন তাদের বৈধ অধিকার। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করা তেহরানের কাছে কৌশলগত দর-কষাকষির প্রধান হাতিয়ার, হারানোর সমান। এখন প্রশ্ন, এমন শর্ত কি ইরান মেনে নেবে?

নাতাঞ্জ ও ফর্ডো পরমাণু প্ল্যান্টসহ নানা পরমাণু স্থাপনা ইরানের বহু বছরের বিনিয়োগের ফল। আমেরিকার দাবি মতো এসব পরমাণু কেন্দ্র বন্ধ করে দিলে ইরানের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা খর্ব হয়ে পড়বে, যা ইরান করতেই চাইবে না।

তাছাড়া ইরানি নেতৃত্বের জন্য পারমাণবিক কেন্দ্র বন্ধ করে, বিনিময়ে জব্দ সম্পদ ফেরত নেওয়ার বিষয়টি দেশটির ভেতর রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। ইরানের কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলো এ ধরনের শর্ত মেনে নেওয়াকে “আত্মসমর্পণ হিসেবেই বিবেচনা করবে।

তাছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকিতে যারপরনাই নাখোশ ইরানের বর্তমান প্রশাসন। মার্কিনিদের কোনো ডিলে একেবারেই বিশ্বাস রাখছে না তারা। যদিও এমনই কঠিন শর্তগুলো মেনে নিয়ে চুক্তি করতে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে। এখনই চুক্তি না করলে, ইরানের কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না। 

এমন পরিস্থিতিতে ১৭ মে সৌদি আরব তিনটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে, আমিরাতের সবচেয়ে সংবেদনশীল পরমাণু কেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ড্রোন হামলার পেছনের শক্তি ইরান না অন্য কেউ, তা খোলাখুলি না বললেও আমিরাত হুমকি দিয়ে রেখেছে এই বলে যে, তার হাত মুচড়ে দিলে আমিরাত বসে থাকবে না। ফলে ইরানের সাথে আমিরাতের সংঘাত লেগে যায় কিনা, তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এমন এক সমঝোতা কাঠামো, যেখানে ইরানকে বড় ধরনের ছাড় দিতে বলা হচ্ছে, কিন্তু বিনিময়ে ইরানের তাৎক্ষণিক ও দৃশ্যমান লাভ খুবই সীমিত। ফলে তেহরান পুরো শর্ত মেনে নেবে এমন সম্ভাবনা কম। ফলে ক্ষীণ হয়ে আসছে যুদ্ধবিরতি আর শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা। মধ্যপ্রাচ্যে আবারো বৃহত্তর সংঘাতের মুখে দাঁড়িয়ে আছে ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল।

Logo