Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

অভিবাসন বিষয়ে ইউরোপে নতুন ঘোষণায় বাড়ছে উদ্বেগ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৯:৩৪

অভিবাসন বিষয়ে ইউরোপে নতুন ঘোষণায় বাড়ছে উদ্বেগ

ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন (ECHR) নিয়ে নতুন রাজনৈতিক ঘোষণা প্রকাশিত হয়েছে, যা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মলদোভার রাজধানী কিশিনাউতে ইউরোপ কাউন্সিলের ৪৬টি সদস্য রাষ্ট্র এই ঘোষণায় সম্মত হয়েছে। যদিও এটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবে আদালতগুলোকে আশ্রয় ও অভিবাসন সংক্রান্ত মামলায় আইন আরো কঠোরভাবে ব্যাখ্যা করার চাপ সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ জনপ্রিয় দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, নতুন ঘোষণায় অভিবাসন-সম্পর্কিত মানবাধিকার আইনের ব্যাখ্যায় আরো “ফাঁকফোকর” তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড কমপ্যারেটিভ ল-এর ড. জ্যঁ-পিয়ের গাউসি মন্তব্য করেছেন, এই ঘোষণা আদালত ও দেশীয় বিচারকদের কাছে এমন বার্তা পাঠাচ্ছে যে তারা রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন ব্যাখ্যা করবে। এতে বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানো সহজ হবে, যদিও তাদের দেশে ফিরে গেলে নির্যাতন বা অমানবিক আচরণের ঝুঁকি থাকতে পারে।

কনভেনশনের দুটি ধারা- আর্টিকেল ৩ (নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ থেকে সুরক্ষা) এবং আর্টিকেল ৮ (ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের অধিকার) সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। নতুন ঘোষণায় বলা হয়েছে, ফেরত পাঠানোর সময় কারাগারের অবস্থা বা স্বাস্থ্যসেবার মানের মতো বিষয়গুলো আরো কঠোরভাবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে অভিবাসীদের সুরক্ষা দুর্বল হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই মানবাধিকার আইন কঠোরভাবে ব্যাখ্যা করে থাকে। গত ৪৫ বছরে মাত্র ১৩টি ক্ষেত্রে ইউরোপীয় আদালত হস্তক্ষেপ করেছে। বেশির ভাগ সিদ্ধান্তই দেশীয় আদালত থেকে আসে। নতুন ঘোষণা সরকারের হাতে আরো ক্ষমতা দেবে, যাতে তারা সহজে অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে পারে। যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, এই পদক্ষেপ “সিস্টেমকে অপব্যবহার করে ফেরত এড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে” সহায়ক হবে।

ঘোষণায় বলা হয়েছে, অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে তৃতীয় দেশে ফেরত পাঠানোর কেন্দ্র (return hubs) বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে তা অবশ্যই ECHR-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। যুক্তরাজ্যের পূর্ববর্তী রুয়ান্ডা পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছিল, কিন্তু ইউরোপের কিছু দেশ এখনো এই ধরনের উদ্যোগ নিয়ে ভাবছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো মনে করছে, এই ঘোষণা অভিবাসীদের মৌলিক সুরক্ষা দুর্বল করবে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। বিশেষ করে যারা যুদ্ধ, নির্যাতন বা দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে ইউরোপে আশ্রয় নিতে চান, তাদের জন্য এটি বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।

কিশিনাউ ঘোষণার মাধ্যমে ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন নতুন রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। অভিবাসীদের সুরক্ষা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও সরকারগুলো বলছে, এটি অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।

Logo